‘সাকিব হাসান’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে রাব্বিকে টঙ্গীতে চাকরির প্রলোভন দেওয়া হয়। সেই প্রলোভনে পড়ে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝালকাঠি থেকে লঞ্চে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রাব্বি। ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছানোর পর তাঁকে বাসে টঙ্গীতে যেতে বলা হয়। টঙ্গী যাওয়ার পর তাঁকে জিম্মি করে গত শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত একটি তিনতলা বাড়িতে নির্যাতন করে দুর্বৃত্তরা। পরে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকালে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ঢাকা থেকে লঞ্চে করে ঝালকাঠিতে ফেরেন রাব্বি।

ভুক্তভোগী তরুণের মা নাজনীন বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ছয় মাস আগে রাব্বির সঙ্গে ফেসবুকে ‘সাকিব হাসান’ নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। সেই ব্যক্তি রাব্বিকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে যেতে বলেন। সেখানে গেলে তাঁকে আটকে বৈদ্যুতিক শক ও তার দিয়ে পিটিয়ে পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা এনে দিতে বলা হয়। মুঠোফোনে ছেলেকে নির্যাতনের শব্দ শুনে তাঁরা বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠালে রাব্বিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী রাব্বি দাবি করেন, জিম্মিকারীরা তাঁকে শুধু বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন করেনি, তার দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। তারা তাঁকে নগ্ন করে ভিডিও করে রেখে দেয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক দ্বীন মোহম্মদ বলেন, ছেলেটির শরীরে বৈদ্যুতিক শকের অনেক পোড়া ক্ষত আছে। মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন। তাঁরা তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছেন।

রাব্বির বাবা মো. শাহ জালাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে মুঠোফোন নম্বরে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম, সেই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফেসবুক আইডিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি গাজীপুরের টঙ্গীতে। তাই ছেলে সুস্থ হলেই সেখানকার থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে।’