সোমবার ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, একটি হ্যান্ডমাইক নিয়ে বসে আছেন শাহীন আলম। বৃষ্টিতে পুরো শরীর ভেজা, এরপরও স্থান ত্যাগ করেননি। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে চাকরি পাচ্ছেন না বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, চাকরি যদি না–ই হবে, তাহলে কেন সরকার লেখাপড়ার সুযোগ দিল? তাঁর মতো আরও অনেক প্রতিবন্ধী পড়ালেখা করছেন। এক সময় তাঁরাও কাজ না পেয়ে পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে উঠবেন।

শাহীন আলম লেখাপড়ার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। করোনা মহামারিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। ওই সময় তিনি নিজ উদ্যোগে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

শাহীন আলম বলেন, সংবিধানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে বঞ্চিত বা তাঁর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করার কথা বলা হয়েছে। তাঁর সরকারি চাকরির বয়সসীমা পার হয়ে যাচ্ছে। অথচ সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও চাকরিতে ঢুকতে পারছেন না। যে কারণে তিনি অনশনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। চাকরির ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন