বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই তরুণী জানান, তাঁর নানাবাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বন্দেখালী এলাকায়। তিনি পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী। পলাতক ২ নম্বর আসামি মজিবর কসাইও একজন গরু ব্যবসায়ী। পেশার কারণে তাঁরা উভয়ে পূর্বপরিচিত। দুই সপ্তাহ আগে নানাবাড়িতে বেড়াতে গেলে সেখানে মজিবর কসাইয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এ সময় পারলারে সামান্য বেতনে চাকরির কথা শুনে তিনি অনেক ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান।

তরুণী বলেন, গত রোববার সকালে নানাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি (তরুণী) টাঙ্গাইলে খালার বাড়িতে বেড়াতে যান। তাঁরা দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালে মজিবর কসাই গ্রেপ্তার রফিকের সঙ্গে মুঠোফোনে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁর কথার প্রলোভনে পড়ে টাঙ্গাইল থেকে দুই দিন পরে নানা-নাতি মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছান। এ সময় রফিক তাঁদের দৌলতদিয়া বাজারের দিকে এগিয়ে যেতে বলেন। কথামতো তাঁদের সঙ্গে দৌলতদিয়া রেলস্টেশনে দেখা হলে রফিক তাঁদের যৌনপল্লির প্রবেশপথের কাছে নিয়ে যান। এ সময় নানা পাশের দোকানে পান কিনতে গেলে রফিক তাঁকে বাসায় নেওয়ার কথা বলে যৌনপল্লিতে নিয়ে যান। এ সময় অনেক মেয়ের সমাগম দেখে সন্দেহ হয় এবং ভেতরে প্রবেশে আপত্তি জানালে জোরপূর্বক ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় বেসরকারি সংগঠন মুক্তি মহিলা সমিতির লোকজন হাতেনাতে তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার ও রফিককে আটক করে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার জানান, এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া তরুণী মঙ্গলবার রাতে বাদী হয়ে হাতেনাতে আটক রফিক সরদার ও পলাতক মজিবর কসাইকে আসামি করে মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ৩০। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রফিককে আজ বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই তরুণীকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন