বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বক্তারা মানববন্ধনে বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৪০০টি সরকারি কলেজ ও তিনটি সরকারি মাদ্রাসায় বেসরকারি কর্মচারীরা গত ১০ থেকে ২৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মরত। তাঁদের মাসিক বেতন তিন হাজার থেকে সাত হাজার টাকা। এই অল্প বেতনের টাকা দিয়ে তাঁরা পরিবার–পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ (মাউশি) ২০১৩ সালে জনবল নিয়োগ দেয়। তবে এ নিয়োগের ক্ষেত্র বেসরকারি কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, মাউশি কর্তৃপক্ষ আবারও ২০২০ সালে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের একটি রিট মামলার নির্দেশনা মোতাবেক অগ্রাধিকার থাকলেও মাউশি কর্তৃপক্ষ সে নির্দেশ মানেনি। সরকারি কলেজগুলোতে মাত্র ৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারিভাবে কর্মরত। বাকি ৯৫ শতাংশ কর্মচারী বেসরকারিভাবে কর্মরত। করোনা মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বেসরকারি কর্মচারীরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনার জন্য অনেক কলেজের কর্মচারীদের মাসিক বেতন–ভাতা অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। অনেকের চাকরিও চলে গেছে। বেতন অর্ধেক করার কারণে তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, কয়েক দিন পর পরই সবকিছুর দাম বেড়ে যাচ্ছে। বাজার থেকে কোনো সবজি কেনা যায় না। এভাবে চলা যায় না। তাঁদের চাকরি স্থায়ী না করলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। চাকরি স্থায়ী করার জন্য প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝোলাবেন। বাংলাদেশ শিক্ষা ক্ষেত্রে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তাতে বেসরকারি কর্মচারীদের অবদানের কথা বাদ দিয়ে ভাবা যায় না। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রমীসহ সবার কাছে অনুরোধ, তাঁরা যেন তাঁদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন।

মানববন্ধনে রাজশাহী বিভাগের সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. এহসানুল কবীর বলেন, রাজশাহী কলেজসহ রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন কলেজ থেকে তাঁদের ছাত্ররা পড়াশোনা শেষ করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উচ্চপদে কর্মরত। তাঁরাসহ সবাই জানেন, তাঁরা কী ধরনের মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকার অনেক বড় বড় উন্নয়ন কাজ করছেন। সরকারের প্রতি আহ্বান, তারা যেন এসব দাবি দ্রুত মেনে নেয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন