লাগাতার কর্মসূচিতে আমরাও লাগাতার ডিউটি করে ক্লান্ত। হরতালের দিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। অবশ্য হরতাল না থাকলে প্রতিদিন রাস্তায় নামতে হয় না। সেদিন একটু ভালো করে ঘুমোতে পারি—এই বক্তব্য একজন পুলিশ কনস্টেবলের। তবে তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি।
অবরোধ ও হরতালে টানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্যরা যাতে ক্লান্ত না হয়ে পড়েন, সে জন্য খাবার বাবদ মাথাপিছু দৈনিক অতিরিক্ত ৬৮ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, শরীর ও মন চাঙা রাখতেই এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৬ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধে একজন পুলিশ সদস্য গড়ে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এই অবস্থায় তাঁরা যাতে ক্লান্ত না হয়ে পড়েন, সে জন্য দৈনিক অতিরিক্ত বরাদ্দ ছাড়াও প্রতি শুক্রবার পুলিশ লাইনে উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় ১৬টি থানা, বিভিন্ন ফাঁড়ি এবং পুলিশ লাইনে পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য কর্মরত আছেন। হরতাল-অবরোধ ও ভিআইপি ডিউটির জন্য পুলিশ লাইনের প্রায় দুই হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। বাকি তিন হাজার সদস্য বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়িতে কর্মরত। তাঁদের জন্যও খাবার বাবদ অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার এ কে এম শহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইনের রিজার্ভ ১ হাজার ৭০০ সদস্যের জন্য খাবার বাবদ প্রতিদিন ৬৮ টাকা করে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। শরীর ও মন চাঙা রাখতে বার্ষিক বরাদ্দ থেকে এই টাকা খরচ হচ্ছে। তবে এ জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এখনো বাড়তি টাকা চাওয়া হয়নি।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ৫ জানুয়ারির পর থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বড় ধরনের কোনো নাশকতার ঘটনা ঘটেনি। কদমতলী এলাকায় ককটেল ফাটানোর সময় শিবিরের এক কর্মী গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এটি ছাড়া নগরে নাশকতার শিকার হয়ে কারও প্রাণহানি হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার দাবি করেছেন, মানসিকভাবে পুলিশ চাঙা থাকাতেই চট্টগ্রামে নাশকতার প্রতিটি ঘটনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত করা যাচ্ছে। যে কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পুলিশ লাইনে কর্মরত সদস্যদের পাশাপাশি থানা বা ফাঁড়ির যেসব পুলিশ হরতাল-অবরোধে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের জন্যও বিকেলে নাশতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মহিউদ্দিন বলেন, থানায় কর্মরত যেসব পুলিশ সদস্য অবরোধ-হরতালে দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের জন্য প্রতিদিন বিকেলে পানির বোতল, সিদ্ধ ডিম, দুই টুকরা পাউরুটি ও একটি কলা বিকেলের নাশতা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে পুলিশের এক সদস্য বলেন, ‘হরতালে রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটানা কয়েক ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। যে কারণে এখন আমাদের প্রতিদিন বিকেলে একটি ডিম, কলা, পাউরুটি দেওয়া হচ্ছে।’
মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (সদর) ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, চলমান কর্মসূচির কারণে পুলিশের খরচ বেড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন