বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাতে গুনাইগাছা ইউনিয়নের চরপাড়া বাজারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূরুল ইসলাম ও বিদ্রোহী প্রার্থী রজব আলীর সমর্থকেরা প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রজব আলীসহ তাঁর পক্ষের অন্তত ১০ জন কর্মী–সমর্থক আহত হন। আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রজব আলীর ভাষ্য, তিনি লোকজন নিয়ে বাজারে জনসংযোগ করছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা হেলমেট পরা অবস্থায় ১৫ থেকে ২০ মোটরসাইকেলে নিয়ে এসে তাঁদের ওপর হামলা করেন। এ সময় তাঁরা বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কোনো সমর্থক সেখানে হামলা করেননি। উল্টো বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজনই আমার সমর্থকদের মারধর করেছেন।’

হরিপুরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

এদিকে গতকাল রাত আটটায় হরিপুর ইউপিতে নৌকার প্রার্থী মকবুল হোসেনের সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজাল হোসেন সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাত আটটায় ইউনিয়নের হরিপুর ও চড়ইকোল বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুটি নির্বাচনী কার্যালয় ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে আহত ১০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকবুল হোসেন দাবি করেন, তাঁর সমর্থকেরা ভোট চাইতে বের হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা হামলা করেন। এতেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজাল হোসেন একই অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমার কর্মীরা নির্বাচনী কার্যালয়েই ছিলেন। নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা এসে হামলা চালিয়েছেন। তাঁরা দুটি কার্যালয় ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছেন।’

এদিকে একই সময়ে ইউনিয়নের চড়ইকোল বাজারেও মকবুল হোসেন ও আফজাল হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সেখানে কেউ আহত হননি।

পার্শ্বডাঙ্গায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িতে হামলা

এর আগে একই দিনে উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল করিমের কর্মী–সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাতে ইউনিয়নের জামালপুর ও আলমনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর রবিউল করিম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে সহকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

জানতে চাইলে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিচ্ছিন্নভাবেই কয়েকটি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে উপজেলার ১১টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ১১ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী রয়েছেন ১১ জন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন সাতজন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন