বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার সঠিক তদন্ত ও বিচার নিয়ে সন্দিহান তাকবীরের পরিবার। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতারা আসামি হওয়ায় প্রভাবশালীদের চাপে তদন্ত এগোচ্ছে না। মূল আসামি ছাত্রলীগ নেতা রউফকে বাদ দিয়ে দায়সারা অভিযোগপত্র দাখিলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মামলার বাদী ও তাকবীরের মা আফরোজা ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘মারা যাওয়ার আগে তাকবীর তার ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম–পরিচয় নিশ্চিত করে সাক্ষ্য দিয়েছে। শহরের সাতমাথায় তাকবীরের ওপর এই হামলা হয়েছে। পুলিশের হাতে সিসিটিভির ফুটেজ আছে। এরপরও হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হচ্ছে না। মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের আকুতি জানিয়ে পুলিশ সুপারসহ বহু জায়গায় ধরনা দিয়েছি। সবাই শুধু আশ্বাস দেন। কিন্তু মামলার তদন্ত এগোচ্ছে না।’

আগের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে থেকে তিনি সবে নথি বুঝে পেয়েছেন। তদন্তও শুরু করেছেন।
জুলহাজ উদ্দিন, এসআই, বগুড়া জেলা ডিবি

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ১১ মার্চ বগুড়া থেকে ধুনট উপজেলায় ছাত্রলীগের সমাবেশে যাওয়ার পথে তাকবীর ইসলামের মোটরসাইকেলের সঙ্গে রউফের মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে ধুনট থেকে ফেরার পর সন্ধ্যায় শহরের সাতমাথায় ছাত্রলীগ নেতা রউফের নেতত্বে তাকবীরের ওপর হামলা হয়। পরে তাকবীরকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৬ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাকবীরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মা আফরোজা ইসলাম সদর থানায় একটি মামলা করেন। এতে আবদুর রউফকে প্রধান আসামি এবং জেলা ছাত্রলীগের সদস্য জাহিদ হাসানসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। তবে মারা যাওয়ার আগে তাকবীর একটি ভিডিও বক্তব্যে তাঁর ওপর হামলার বর্ণনা দেন এবং জড়িত ব্যক্তিদের নাম–পরিচয় নিশ্চিত করেন। ভিডিও বক্তব্যে আবদুর রউফের নেতৃত্বেই হামলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

আবদুর রউফ ছাড়া এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সদস্য জাহিদ হাসান (২৬), ছাত্রলীগ কর্মী আনোয়ার হোসেন (২৭), তারেক (২৭), বিধান চন্দ্র মহন্ত (২৭), নিশাদ (২১) এবং আরমান (২২)।

পুলিশ জানায়, তাকবীর মারা যাওয়ার পরপরই পুলিশ কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী আল আমীনকে গ্রেপ্তার করে। আল আমীন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি বলেন, রউফের নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে। এর আগেই ছাত্রলীগ থেকে রউফকে বহিষ্কার করা হয়। তাকবীর হত্যাকাণ্ডর পর আত্মগোপন করেন রউফ। পলাতক থাকাবস্থায় ২৫ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নেন তিনি। পরে এ বছরের ১৯ জুলাই বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম হাবিবা মন্ডলের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। সেই থেকে তিনি কারাগারে। ৩১ মে আসামি জাহিদ হাসান, বিধান চন্দ্র মহন্ত ও নিশাদ বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিকের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তবে রউফ ও আল আমিন ছাড়া জাহিদ, বিধান, নিশাদ ছাড়াও সন্দিগ্ধ এক আসামি জামিনে আছেন। ধরাছোঁয়ার বাইরে এজাহারভুক্ত আসামি আনোয়ার, তারেক ও আরমান।

প্রথমে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান সদর থানার এসআই আবদুল মালেক। তিনি তদন্ত শেষ না করেই এ বছরের ৩০ জুন তদন্তভার সদর থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) নিকট হস্তান্তর করেন।

মালেক বলেন, মামলার তদন্তের শেষ পর্যায়ে তদন্তভার পরিদর্শক তদন্তের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনি প্রায় সাড়ে চার মাস মামলাটি তদন্ত করেছেন। তবে তদন্ত শেষ করতে পারেননি। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে ডিবি। বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশের এসআই তদন্তকারি কর্মকর্তা জুলহাজ উদ্দিন বলেন, আগের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে থেকে তিনি সবে নথি বুঝে পেয়েছেন। তদন্তও শুরু করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন