বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্বামীর এ অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন স্ত্রী সাজেদা বেগম (৬০) হাতপাখা দিয়ে ঘন ঘন বাতাস করছেন। বাবাকে বাঁচাতে সঙ্গে থাকা তাঁর ছেলেও প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আবদুর রহমানের স্বজনদের দাবি, প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন রোগী ভর্তি করাতে রাজি হননি। পরে তাঁর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৮৪-তে নেমে এলে অনেক আকুতি–মিনতির পর রোগী ভর্তি করেন।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল

কর্তৃপক্ষ। গতকাল পর্যন্ত ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছেন ২৮৪ জন। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ২৮৪ করোনা রোগী থাকলেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে ২০০ শয্যায়। হাসপাতালে ১৯টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা থাকলেও চালু আছে ১৫টি। আর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যাসংখ্যা আটটি।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ টি এম নুরুজ্জামান বলেন, রোগী বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি এখন খুবই নাজুক। কেউ সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র না নিলে অন্য কাউকে ভর্তি করা যাচ্ছে না।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

রোগীর চাপ বেড়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। এ হাসপাতালে করোনা ইউনিটে শয্যাসংখ্যা ছিল ১০০। রোগী বেড়ে যাওয়ায় ৩ জুলাই শয্যাসংখ্যা প্রথমে ১৫০ এবং পরে ২০০ করা হয়। সর্বশেষ করোনা ওয়ার্ডে শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে এখন ২৫০ করা হয়েছে।

এ হাসপাতালের বেশ কয়েক রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় পুরোপুরি সুস্থ না হতেই এবং করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসার আগেই ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের অন্যরাও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

এ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন জয়পুরহাট শহরের নতুন হাট এলাকার রাবেয়া বেগম (৬০)। তাঁর মেয়ে ডলি বেগম অভিযোগ করেন, করোনা পজিটিভ শনাক্তের পর গত ১৫ জুন তাঁর মাকে এ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ফুসফুসের ৭৫ শতাংশে সংক্রমণ ছিল। করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসার আগেই ৩০ জুন ছাড়পত্র দিয়ে রোগী বাড়িতে নিয়ে যেতে বলা হয়। ৯ জুলাই অক্সিজেন লেভেল ৭৫–এ নেমে এলে আবার তাঁকে জয়পুরহাট থেকে এ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

নেগেটিভ না হলেও অনেক রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে স্বীকার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, বর্তমানে করোনা ওয়ার্ডে ২৩৯ রোগী ভর্তি রয়েছেন। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মৃত্যু ও সংক্রমণ বেড়েছে তিন গুণ

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি মাসে ১১ দিনে করোনায় ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৬১ জনের। প্রতিদিন করোনায় সংক্রমিত হয়ে গড়ে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের বেশি মানুষের। প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৭ জনের বেশি মানুষ।

এ জেলায় জুন মাসে করোনায় সংক্রমিত হয়ে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৮২ জনের। গেল মাসে করোনায় গড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৮টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ৩২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ১২ শতাংশ। এ সময়ে করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন