বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এখন সন্তোষ রবিদাস কানিহাটি চা–বাগানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন। করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তিনি চা–বাগানে সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন। সপ্তাহে এক দিন নিয়েছেন তাদের পরীক্ষা। সপ্তাহের এক দিন সমাজের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা, ধর্মীয় আচার–রীতি ও স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে আলোচনা করতেন। শিক্ষার্থীদের দেওয়া হতো শিক্ষা উপকরণ।

চা–বাগানের মধ্যে পিছিয়ে পড়া রবিদাস সম্প্রদায়ের সাবেক চা–শ্রমিক সত্যনারায়ণ রবিদাস ও মা কমলি রবিদাসের ছেলে সন্তোষ রবিদাস। মাত্র ছয় মাস বয়সে বাবাকে হারিয়ে মায়ের কষ্টের আয়ে বেড়ে ওঠেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। বর্তমানে এমবিএ ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।

সন্তোষ রবিদাস নিজের কষ্টের দিনের কথা কখনো ভুলতে পারেন না। তাই নিজের জনগোষ্ঠীর পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছেন তিনি। সন্তোষ রবিদাস জানান, তাঁর মা আগে দৈনিক মজুরি পেতেন ৮৫ টাকা। এখন পান ১২০ টাকা। মায়ের এ আয়ে তাঁদের সংসার চালানো কঠিন ছিল। তাঁর মা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ জুগিয়েছেন। আর ঋণের কিস্তি পরিশোধে চা–বাগানের কাজের পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়ায় বালু উত্তোলনের কাজ করেছেন। সংসারে মা-ছেলে আলুসেদ্ধ খেয়ে বহু রাত কাটিয়েছেন।

সন্তোষ রবিদাস জানান, চা–বাগানে এখন আর আগের অবস্থা নেই। বর্তমানে শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, স্যানিটেশনের সুবিধা বেড়েছে। খরচ ও প্রতিযোগিতাও অনেকটা বেড়ে গেছে। তবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এখনো সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারছে না চা–জনগোষ্ঠীর সন্তানেরা। তাই তিনি নিজের উদ্যোগে চা–বাগানে গড়ে তুলেছেন শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম। ‘একে অন্যকে সাহায্য কর’ স্লোগানে চা–বাগানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন তিনি। আবার মাঝেমধ্যে বড় আকারের আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক সভা করেন চা–বাগানের নাচঘরে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন