আবদুল মান্নানসহ আতুরার ডিপোর আড়তের সামনে আরও ১০ জন মৌসুমি ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা কেউ ৫০টি, কেউ ৪০, আবার কেউ ১০০টি গরু, ছাগল ও মহিষের চামড়া নিয়ে এসেছেন। এই মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, কেনার দরের চেয়ে ২০–৩০ টাকা বেশি পাওয়ার জন্য দরাদরি করছেন তাঁরা। তবে কোনো গতি না হলে কেনা দামেই ছাড়তে প্রস্তুত তাঁরা।

মো. ইলিয়াস নামের এক মৌসুমি ব্যবসায়ী নগরের কোতোয়ালি থেকে ৫০টি গরুর চামড়া নিয়ে আসেন। গড়ে তাঁর কেনা পড়েছে ২৮০ টাকা। পরে তিনি ৩০০ টাকায় এসব চামড়া বিক্রি করে দেন। গাড়িচালক মো. ওসমান নিয়ে আসেন ৪০টি চামড়া। তিনি কিনেছেন ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। তাঁর চাওয়া ৩০০ টাকা।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুসলিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে চামড়া আসছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে আড়তদারদের দর–কষাকষি চলছে। তাঁরা এমনভাবে চামড়া কিনছেন, যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন। ২০–৩০ টাকা লাভ পাচ্ছেন মৌসুমি বিক্রেতারা।

সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আড়তদার সমিতিভুক্ত ১২০ জনের মতো ব্যবসায়ী রয়েছেন। এর বাইরে আরও কিছু ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়েও অনেক ব্যবসায়ী চামড়ায় লবণ দিয়ে থাকেন।

সমিতির সহসভাপতি আবদুল কাদের জানান, গতবার প্রায় চার লাখ চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এবারও সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ চামড়া সংগ্রহ হবে। এর মধ্যে তিন লাখের বেশি গরু ও মহিষের চামড়া। বাকিটা ছাগলের চামড়া।

৫ জুলাই ‘কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বৈঠক শেষে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দর গতবারের চেয়ে বাড়িয়ে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া সারা দেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়ার দর ৩ টাকা বাড়িয়ে প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন