পুলিশ জানায়, বাঘা খাদ্য গুদাম থেকে কালোবাজারে বিক্রি হওয়া সরকারি চাল চারঘাট উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এমন সংবাদ পেয়ে বাঘা থানা-পুলিশ কাঁকড়ামারী বাজারের দুই চালের আড়তে অভিযান চালায়। এই অভিযানে মেম্বার চাউল আড়ত থেকে ৩৬০ বস্তা এবং পাশের বিলাল খাদ্য ভান্ডার থেকে ৩০৭ বস্তা চাল ও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

জব্দ করা বস্তার গায়ে লেখা রয়েছে, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ।’ এই স্লোগানের নিচে খাদ্য অধিদপ্তরের লোগো আছে। তার নিচে লেখা আছে, খাদ্য অধিদপ্তর। নেট ওজন ৩০ কেজি। উৎপাদন আগস্ট ২০২১। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান: পথ বাংলা ইন্টারন্যাশনাল।

অভিযুক্ত মোস্তাকিন আলী ও শমসের আলী পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁরা দুজন বাঘা খাদ্য গুদামের কর্মচারী আবদুল হালিমের মাধ্যমে ২০ টন চাল কিনেছেন। ট্রাকযোগে ওই চাল আড়তে এনে আজ সকাল থেকে সরকারি বস্তা পরিবর্তন করে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্য বস্তায় প্যাকেটজাত করছিলেন।

default-image

জানতে চাইলে বাঘা উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক শামসুন্নাহার বলেন, চারঘাটে সরকারি চাল আটকের কথা তিনি অবগত আছেন। তবে ওই চাল বাঘা খাদ্য গুদামের নয় বলে তিনি দাবি করেন।

শামসুন্নাহার বলেন, ‘আমাদের (বাঘা) খাদ্যগুদামের মজুত ঠিক আছে। হালিম বাঘা খাদ্যগুদামের পরিচ্ছন্নতা কর্মচারী। হালিমের কাছ থেকে কেনার কারণে হয়তো তাঁরা বলছেন যে এই চাল বাঘা খাদ্যগুদামের, আসলে তা নয়। বাঘার মজুত ঠিক আছে। তাঁরা অন্য কোথাও থেকে চাল কিনতে পারেন।’

বাঘা উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জবিউর রহমান বলেন, আবদুল হালিম বাঘা খাদ্য গুদামের পরিচ্ছন্নতা কর্মচারী। তাঁরা জানতে পেরেছেন, চাকরির পাশাপাশি তিনি চালের ব্যবসা করেন। চারঘাটে আটক চালগুলো তিনি ঈশ্বরদীর এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনেছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, তিন হাত বদলের পর চালগুলো চারঘাটের ব্যবসায়ীর কাছে আসে । এগুলো বাঘা খাদ্য গুদামের চাল নয় ।

চাল জব্দের বিষয়ে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, চালগুলো সরকারি খাদ্যগুদামের। তাঁরা গোপন সূত্রে খবর পেয়েছেন যে বাঘা খাদ্যগুদাম থেকে কালোবাজারে বিক্রির জন্য প্রায় ৭০০ বস্তা চাল চারঘাটে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বস্তা বদল করার সময় পুলিশ চালগুলো জব্দ করেছে। এ বিষয়ে বাঘা থানায় একটি মামলা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন