default-image

ফরিদপুরর চরভদ্রাসনে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ চন্দ্র চরণ বিশ্বাসের স্ত্রী বৃদ্ধা চারুবালাকে (৭৭) মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান। উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের রমেশবালার ডাঙ্গী গ্রামের যে খুপরি ঘরে বসবাস করতেন চারুবালা, সেখানে একটি সেমিপাকা চৌচালা টিনের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে চারুবালার হাতে তুলে দেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনের স্বতন্ত্র দলীয় সাংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক ভোলা মাস্টার, চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার আলী মোল্লা ও থানা যুবলীগের সভাপতি মো. মোরাদ হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী চারুবালার স্বামী চন্দ্র চরণ বিশ্বাস ও শিশুকন্যা পার্বতীকে গুলি করে হত্যা করে। পরে চারুবালার ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন, পুড়িয়ে দেওয়া হয় তাঁর বাড়িঘর। এরপর উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের রমেশবালার ডাঙ্গী গ্রামের দুর্গম চরের একটি খুপরি বসবাস করে আসছিলেন চারুবালা (৭৭)। সম্প্রতি ফরিদপুরের শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি নামের একটি সংগঠন খুঁজে বের করে চারুবালাকে। তারা চারুবালার পরিচয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরে। চারুবালার অসহায়ত্বের কথা শুনে এগিয়ে আসেন পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান। পরে চরভদ্রাসন থানা–পুলিশের মাধ্যমে চারুবালার বসতভিটায় চৌচালা সেমিপাকা একটি টিনের ঘর করে দেন পুলিশ সুপার।

বিজ্ঞাপন

ঘরটি হস্তান্তর করার জন্য আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চারুবালার বসতবাড়িতে যান ফরিদপুর-৪ আসনের সাংসদ মজিবুর রহমান চৌধুরী। সাংসদের আগমন উপলক্ষে চারুবালার বসতভিটায় চরভদ্রাসন থানা–পুলিশের আয়োজনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

default-image

সভায় সাংসদ নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আমি প্রায় সাড়ে সাত বছর ধরে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন থানার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, কিন্তু এত বছরে বীরাঙ্গনা চারুবালার সন্ধান আমার কাছে ছিল না। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান এই বীরাঙ্গনা চারুবালার সন্ধান করে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।’ সাংসদ বলেন, পুলিশ এই করোনা মহামারির সময় তাদের নিজস্ব তহবিলের টাকা দিয়ে সুন্দর একটি ঘর তৈরি করে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এরপর হয়তো অনেক ধরনের সাহায্য–সহযোগিতা এই চারুবালার জন্য আসবে, কিন্তু পুলিশ এই বীরাঙ্গনার খোঁজ নিয়ে প্রথম তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বিষয়টি সবার নজরে এনেছে।

সভা শেষে সাংসদ নিক্সন চৌধুরী পুলিশের দেওয়া নবনির্মিত ওই ঘর চারুবালার হাতে হস্তান্তর করেন। এ সময় সাংসদ তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে চারুবালাকে এক লাখ টাকা তুলে দেন। এ সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক জেলা পরিষদের তহবিল থেকে চারুবালার হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন।

থাকার ঘর ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে চারুবালা বলেন, ‘অনেক কষ্টে দিন কাটছে। খুপরি ঘরে বৃষ্টির সময় টেকা যেত না। বাজারে শাকসবজি বেইচা বাঁচতাম। আজ আমি ঘর পাইছি, টাকা পাইছি, এবার শান্তিতে থাকতে পারব।’

পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান বলেন, ‘বীরাঙ্গনা ওই বৃদ্ধ বহু কষ্টে ছিলেন। এ কথা শুনে চরভদ্রাসন পুলিশের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে তাঁর অসহায়ত্ব লাঘবে সামান্য একটু চেষ্টা করেছি মাত্র। জীবনের শেষ দিনগুলো শান্তিতে থাকুন চারুবালা, এ প্রত্যাশা।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন