default-image

গত চার দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ভর্তি হওয়া ২৮ জন মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মারা যাওয়া ২৮ জনের মধ্যে ৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন, সেটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের কেউ কেউ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল কিন্তু অন্য হাসপাতালের মতো নয়। অন্য হাসপাতালগুলো শুধু যাঁরা করোনা পজিটিভ, তাঁদের ভর্তি করছে। কিন্তু আমরা করোনা সন্দেহে এবং করোনায় আক্রান্ত সব রোগীকে আমাদের হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করছি। এ পর্যন্ত চার দিনে চারজন রোগী মারা গেছেন, যাঁরা করোনা পজিটিভ। বাকি যে ২৪ জন মারা গেছেন, তাঁদের নানা রোগ ছিল। কেউ কেউ করোনার সন্দেহভাজনও আছেন। কারও স্যাম্পল নেওয়া হয়েছে, কারও কারও স্যাম্পল নেওয়ার সুযোগ হয়নি। যে ২৮ জন মারা গেছেন, তাঁদের করোনা সন্দেহেই ভর্তি করে নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের যে সংখ্যা ঘোষণা করা হয়, সেই হিসাবে ঢাকা মেডিকেলে করোনা পজিটিভ হিসেবে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের তথ্যও সেখানে রয়েছে। আমরা কিন্তু প্রতিদিন অনলাইনে আমাদের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দিই।’

গত ২ এপ্রিল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চালু হওয়া বার্ন ইউনিট ভবনে করোনায় আক্রান্তদের ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের অধিকাংশের বয়স ৫০–এর ওপরে। এর মধ্যে দু-একজনের বয়স ৩০–এর কোঠায়। যে ২৮ জন মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) ভর্তি ছিলেন ছয়জন। আর করোনা সন্দেহভাজন যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যেও একজন শিশু রয়েছে। ওই শিশুর বয়স ৭ মাস। তবে ওই শিশু করোনায় মারা গেছে বলে মনে করি না। ওই শিশুর মারাত্মক নিউমোনিয়া ছিল। এ জন্য করোনা ভেবে আমাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমাদের এখানে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা ভর্তি ছিল, পরে সে মারা যায়।’

পরিচালক এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘যাঁরা খারাপ অবস্থায় আসছেন, তাঁদেরও ভর্তি করা হচ্ছে। আমাদের এখানে যে রোগীরা আসছেন, তাঁদের জ্বর থাকতে পারে, শ্বাসকষ্ট থাকতে পারে। আমরা কিন্তু তাঁদের করোনা সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করছি। অনেকে একেবার শেষ মুহূর্তে আসছেন। সব জায়গা ঘুরে আসছেন। আর ঢাকা মেডিকেলে সব সময় ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে রোগীরা আসে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহ ব্যক্তিদের ভর্তি করা কিন্তু আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। এখন তো করোনা সন্দেহভাজন কোনো রোগীকে কোনো হাসপাতালই ভর্তি করছে না। কোনো হাসপাতাল যদি ভর্তি না করে, তাহলে তাঁরা যাবেন কোথায়? করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ভর্তি হচ্ছেন, কিন্তু মারা যাচ্ছেন অন্য রোগে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0