বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ঠিকাদারের কার্যাদেশটি বাতিল করলেও পুনরায় দরপত্র আহ্বান করলে ওই বাজেটে শেষ করা সম্ভব হবে না।
রুহুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী, কোটচাঁদপুর

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাব্দালপুর বাজার থেকে তালসার বাজার পর্যন্ত সড়কের কিছু অংশ পাকা রয়েছে। পথচারীরা ঠিকমতো চলাচল করতে পারত না। এই অবস্থায় এলজিইডি সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেয়। এ জন্য ৩ দশমিক ৬৭০ মিটার পাকাকরণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল এই সড়কের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় ঝিনাইদহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোল্লা এন্টারপ্রাইজ। ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই ওই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ২৮ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই সড়কের কাজ শেষ হয়নি।

এদিকে, নির্দিষ্ট সময়ে কাজটি শেষ না হলেও ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়নি। তবে ওই কাজে আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বৃদ্ধি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলাম।

গত বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের অনেক স্থানে ইটের খোয়া ফেলে রাখা। এর দুই পাশে ইট দেওয়া আছে।

ওই সড়কে দাঁড়িয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল জব্বারের সঙ্গে। তিনি বলেন, এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। তারপরও প্রতিকারের কোনো পদক্ষেপ নেই।

তালসার এলাকার বাসিন্দা আকিমুল ইসলাম জানান, সড়কটি সাব্দালপুর বাজার ও সাব্দালপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বের হয়ে তালসার বাজারে মিশেছে। এই সড়কের দুই পাশে কামারকুড়ো, আন্দোলপোতা, ছোকাদা, শ্রীরামপুর, মামুনসিয়া গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামের মানুষ বাড়ি থেকে বের হলেই ভোগান্তিতে পড়ে। এ ছাড়া কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কমপক্ষে ২০টি গ্রামের মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোল্লা এন্টারপ্রাইজের মালিক শামীম হোসেন মোল্লা জানান, কাজটি তাঁর লাইসেন্সে হলেও মূলত কাজ করছেন ঝিনাইদহের আরেক ঠিকাদার আবু সাঈদ। তাঁর লাইসেন্স ব্যবহার করে আবু সাঈদ দরপত্র জমা দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে ঠিকাদার আবু সাঈদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলাম বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ শেষ করাতে পারছেন না। আবার কাজটি বাতিল করলেও পুনরায় দরপত্র আহ্বান করলে ওই বাজেটে শেষ করা সম্ভব হবে না। এ কারণে তাঁরা চেষ্টা করছেন যেন কাজটি ঠিকাদারকে দিয়ে শেষ করানো যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন