default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ মুন্সির ছোট ভাই জামাল মুন্সি (৫০) হত্যার ঘটনায় গ্রামে এখনো চলছে ভাঙচুর ও লুটপাট। চার দিন ধরে রাত হলেই মানুষশূন্য আসামিপক্ষের লোকজনের বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চলছেই। উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের অনেক দোকানপাট দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কায় উপজেলার চরচারতলা গ্রামের আসামিপক্ষের লোকজন ঘরছাড়া। বাড়িঘরে তালা লাগিয়ে পরিবারগুলোর সদস্যরা অন্যত্র ঠাঁই নিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, এমন কোনো ঘটনার কথা কেউ তাদের জানায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আরিফুল ইসলাম ওরফে সাদ্দামের বাবা বিএনপি নেতা ও ওই হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি আবু শহিদ মিয়া, তাঁর ছোট ভাই ও ২৪ নম্বর আসামি বাদল মিয়া, অপর ছোট ভাই সানু মিয়া, বড় ভাই আবু তাহের, প্রতিবেশী ফারুক মিয়া, মুজেদা বেগম ও আক্কাস মিয়ার বসতবাড়িতে দুর্বৃত্তরা ঢুকে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছেন। এভাবে প্রতিদিন চলছে লুটপাট।

গত শুক্রবার রাত একটার দিকে প্রতিপক্ষের ছোড়া বল্লমের আঘাতে নিজ বাড়ির সামনে নিহত হয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির ছোট ভাই জামাল মুন্সি।

আসামিপক্ষের একাধিক পরিবার জানায়, ঘটনার পর থেকে নিরীহ-নিরপরাধ পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুরা গ্রামে প্রবেশ করতে পারছেন না। সবাই রয়েছে আতঙ্কে। এ সুযোগে রাত হলেই চলে লুটপাট। তাঁদের পরিবারের সারা জীবনের সব সঞ্চয় লুটপাট হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সূত্রে আরও জানা যায়, সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর সকাল পর্যন্ত উপজেলার চরচারতলা গ্রামের লতিফ বাড়ির বাদল মিয়া ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সেলিম পারভেজের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট, সেলিম মিয়ার মালিকানাধীন আনিসা পরিবহনের একটি বড় নৌকা লুট, গ্রামের ভেতরে থাকা জাকির হোসেন ও মনা মিয়ার দুটি দোকানে লুটপাট ও আশুগঞ্জ পুরাতন ফেরিঘাটে থাকা সেলিম মিয়ার তিনটি দোকান দখলে নিয়েছে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির পক্ষের লোকজন। গত রোববার বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আসামিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। শনিবার রাত থেকে এসব তাণ্ডব শুরু হয়।

মুখস্থ অনেক কিছুই বলা যায়। মুখে বললেই তো হবে না। লতিফবাড়ির লোকজন নিজেরাই ট্রাকে করে নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। দখলে নেওয়ার মতো গ্রাম, আশুগঞ্জ বাজার ও ফেরিঘাটে আসামিপক্ষের এমন কোনো দোকানপাট নেই। তাঁরা যা বলছেন, এসব বাস্তব ও সত্য নয়।
হানিফ মুন্সি, আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ আজ বুধবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, এমন কোনো ঘটনা কেউ তাঁদের জানায়নি। লুটপাট ও ভাঙচুর ঠেকাতে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীত উপেক্ষা করে তিনজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ওই গ্রামে ১২ জন পুলিশ ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। বাড়ির পেছন থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। তারপরও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

গত শুক্রবার রাত একটার দিকে প্রতিপক্ষের ছোড়া বল্লমের আঘাতে নিজ বাড়ির সামনে নিহত হয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির ছোট ভাই জামাল মুন্সি। তিনি উপজেলার চরচারতলা ইউনিয়নের চরচারতলা গ্রামের ফজলুল হক মুন্সির ছেলে।

এ ঘটনায় হানিফ মুন্সির অপর ছোট ভাই জাহাঙ্গীর মুন্সি বাদী হয়ে গত শনিবার রাতে চরচারতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন খন্দকার, ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম, তাঁর বাবা উপজেলা বিএনপি নেতা আবু শহিদ মিয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সেলিম পারভেজসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ মামলার এজাহার নামীয় পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

আসামিপক্ষের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা এড়াতে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আনিসুর রহমান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সার্কেল

অভিযোগের জবাবে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মুখস্থ অনেক কিছুই বলা যায়। মুখে বললেই তো হবে না। লতিফবাড়ির লোকজন নিজেরাই ট্রাকে করে নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘দখলে নেওয়ার মতো গ্রাম, আশুগঞ্জ বাজার ও ফেরিঘাটে আসামিপক্ষের এমন কোনো দোকানপাট নেই। তাঁরা যা বলছেন, এসব বাস্তব ও সত্য নয়। আর আমি প্রশাসনকে বলেছি, তাঁরা যদি মালামাল সরিয়ে নিতে চান যেন বাধা না দেওয়া হয়।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আসামিপক্ষের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা এড়াতে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন