চার লাখ টাকায় প্রার্থীকে জেতানোর আশ্বাস দেওয়া কর্মকর্তা বরখাস্ত

আবদুল হান্নান

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল হান্নানকে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। উপজেলার বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সদস্য পদে এক প্রার্থীকে জয়ী করতে চার লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজ সোমবার রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের কার্যালয় থেকে সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এ আদেশ দেন।

এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি ‘চার লাখ টাকার বিনিময়ে সদস্য প্রার্থীকে জিতিয়ে দিতে চাইলেন নির্বাচন কর্মকর্তা’ শিরোনামে প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ভোটের আগেই ওই নির্বাচন কর্মকর্তাকে মিঠাপুকুর থেকে রংপুরে পীরগাছা উপজেলায় বদলি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার লাখ টাকার বিনিময়ে এক ইউপি সদস্য প্রার্থীকে জেতাতে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল হান্নান গোপন চুক্তি করেন। তাঁর গোপন চুক্তির ফোনালাপ ফাঁস হয়। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে ভাইরাল হয়।

ফোনালাপে নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইউপি সদস্য প্রার্থীর মধ্যে কথোপকথনে শোনা যায়, সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলামকে জেতাতে ভোটকেন্দ্র থেকে প্রতিপক্ষের লোকজনকে বের করে দেওয়া এবং ভোটের আগেই অন্তত ৩০০ ব্যালট পেপার সরবরাহের বিনিময়ে টাকা চান নির্বাচন কর্মকর্তা। তিনি ওই প্রার্থীকে বোঝান, নির্বাচন করতে গেলে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচিত হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই চার লাখ টাকার চুক্তি করলে তিনি যেভাবেই হোক জিতিয়ে দেবেন।

৭ ফেব্রুয়ারি সপ্তম ধাপের ইউপি নির্বাচনে মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন