চালককে হাত-পা বেঁধে হত্যা করে টমটম চুরি
কক্সবাজারের রামুতে টমটমের (ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক) চালককে হাত-পা বেঁধে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এরপর তাঁর লাশটি জঙ্গলে ফেলে টমটমটি নিয়ে পালিয়েছে তারা। জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের রবারবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার দুপুরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করলেও এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশের ধারণা, টমটম ছিনতাই করার জন্য সংঘবদ্ধ একটি চক্র আজ ভোররাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।
নিহত চালকের নাম জাফর আলম। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের করিম সিকদারপাড়ার মৃত আবদুল গনির ছেলে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে জাফর আলমকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, আজ বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে রবারবাগান এলাকার ঝোপের মধ্যে একটি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে খবর দেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে রামু থানার পুলিশকে খবর দেন। দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
নিহত জাফরের ভাতিজা জায়তুন নুর বলেন, কয়েক মাস আগে কিস্তিতে টমটমটি কিনেছিলেন তাঁর চাচা। সংসারে তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবারটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টমটম ছিনতাইয়ের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এক মাস আগে রামুর খুনিয়াপালং এলাকার এক চালককে হত্যা করে আরও একটি টমটম ছিনতাই করেছিল সংঘবদ্ধ চক্র। পরে র্যাব-১৫ কক্সবাজার
ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেন। সেই সঙ্গে চুরি যাওয়া টমটমটিও উদ্ধার করা হয়। সাত দিন আগে রামুর ঈদগড়ে শহিদুল ইসলাম নামক এক তরুণকে হত্যা করে তাঁর মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে।