default-image

চালের দাম বেড়েছে আবারও। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন পবিত্র রমজানের কথা মাথায় রেখে খোলাবাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি চালের মজুত দ্রুত বাড়াতে আমদানিতেও নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত ও মিয়ানমারের পর এবার ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকেও চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও আপাতত পেঁয়াজ আমদানি না করার সুপারিশ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি ও রমজানের প্রস্তুতি নিয়ে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় আজ রোববার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে সভায় রোজা শুরু হওয়ার আগেই সড়ক মেরামতের কাজ দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যানজট নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সভায় মূলত খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যাপারে বেশি জোর দেওয়া হয়। সম্প্রতি চাল, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। এসব পণ্য দ্রুত আমদানি করে দাম নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হয়। সভায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার পরও এখনো যথেষ্ট পরিমাণ চাল কেন দেশে এল না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আমরা অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য কিছু পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির কথা বলেছিলাম। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশকে বিবেচনায় নিয়ে পেঁয়াজ আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাফর উদ্দীন, সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি মজুত বাড়াতে আমরা ভারত ও মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি শুরু করেছি। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকেও চাল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতে যে ১০ লাখ টন চাল আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা আসতে শুরু করেছে। বন্দরে চাল খালাস করা নিয়ে কিছু জটিলতা ছিল, তা কেটে যাচ্ছে। আশা করি, রমজানের আগে আমরা মজুত বাড়াতে পারব।’

বিজ্ঞাপন

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আপাতত কিছু পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করা যায় কি না, সেই প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয় এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা সভায় এই মুহূর্তে পেঁয়াজ আমদানি না করার ব্যাপারে সুপারিশ করেন। চলতি মাসের শেষ দিকে কৃষকেরা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ কাটা শুরু করবেন। এরপর তা বাজারে আসবে। ফলে এখন পেঁয়াজ আমদানি করতে গেলে তা দেশে পৌঁছাতে সপ্তাহখানেক সময় লেগে যাবে। একই সময়ে আমদানি ও কৃষকের পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কমে যাবে। এতে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে বলা হয়, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন দ্রুত বাড়ছে। কৃষকেরাও ভালো দাম পাচ্ছেন। কিন্তু আমদানি হলে কৃষক ভালো দাম পাবেন না। ভালো দাম না পেলে আগামী বছর তাঁরা পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে নিরুৎসাহিত হবেন। এই যুক্তিতে পেঁয়াজ আমদানি না করার পক্ষে অবস্থান নেন তাঁরা।

সরকারি মজুত বাড়াতে আমরা ভারত ও মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি শুরু করেছি। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকেও চাল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতে যে ১০ লাখ টন চাল আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা আসতে শুরু করেছে। বন্দরে চাল খালাস করা নিয়ে কিছু জটিলতা ছিল তা কেটে যাচ্ছে। আশা করি, রমজানের আগে আমরা মজুত বাড়াতে পারব।
মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, সচিব, খাদ্য মন্ত্রণালয়

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জাফর উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আমরা অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য কিছু পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির কথা বলেছিলাম। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশকে বিবেচনায় নিয়ে পেঁয়াজ আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সভায় ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে নির্মাণ ও মেরামতকাজের জন্য সৃষ্ট যানজটের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। রমজানের আগেভাগে বেশির ভাগ সড়ক মেরামত শেষ করা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি গুদামে বর্তমানে ৫ লাখ ২৫ হাজার টন চাল মজুত আছে। গত বছর এই সময়ে চালের মজুতের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৫ হাজার টন। আর বাজারে মোটা চালের কেজি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে চালের দাম না বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন