default-image

যশোরের অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের ৩৫৫ জন দুস্থ নারী চার মাস ধরে ভিজিডি কর্মসূচির চাল পাচ্ছেন না। ইউনিয়নের ভিজিডির তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এবং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়ায় চেয়ারম্যান চাল বিতরণ করছেন না। এতে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চাল না পেয়ে ইউনিয়নের ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ নারীরা বিপাকে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুর রহমান বলেন, শ্রীধরপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা ভিজিডির ১০ জন উপকারভোগীর ব্যাপারে অভিযোগ দিয়েছিলেন। তদন্তে আটজনের ব্যাপারে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তালিকা সংশোধন করে চেয়ারম্যানকে চালের ডিও (বিতরণ আদেশ) দেওয়া হয়েছে। উপকারভোগীদের মধ্যে দ্রুত চাল বিতরণ করতে চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যা বলেন, তদন্ত করে তালিকা থেকে আটজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পরে আটজনকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর পরপরই লকডাউন শুরু হয়ে যায়। এ ছাড়া ইউপি সদস্যরা তাঁর কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। তবে পাঁচজন সদস্য অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অন্য সদস্যরা তালা খুলছেন না। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি।’

বিজ্ঞাপন
চাল না পেয়ে ইউনিয়নের ভিজিডি কার্ডধারী ৩৫৫ জন দুস্থ নারী বিপাকে পড়েছেন।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ভিজিডির চালের ডিও পেয়েছি। কিন্তু গুদাম থেকে চাল তুলে কোথায় রাখব আর কীভাবে বিতরণ করব? বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমার পক্ষে চাল বিতরণ করা কঠিন।’

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, শ্রীধরপুর ইউনিয়নের ৩৫৫ জন দুস্থ নারীকে দুই বছর মেয়াদি প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে ভিজিডির চাল দেওয়া হচ্ছে। ভিজিডি চাল বিতরণের ২০২১-২২ অর্থবছরের মেয়াদ গত ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ওই মাসের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যানের নামে ডিও হয় এবং তিনি উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল তুলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এনে রাখবেন। পরে ওই চাল উপকারভোগী নারীদের মধ্যে নির্ধারিত মাসের মধ্যে বিতরণ করার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন অভিযোগে গত ডিসেম্বর মাসে শ্রীধরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন সদস্য চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মোল্যার বিরুদ্ধে ইউএনও কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে তদন্তের পর ইউএনওর পরামর্শে চেয়ারম্যান গত ২১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ছুটিতে যান। এর মধ্যে গত ৩১ ডিসেম্বর ইউপি সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন। ছুটি শেষে গত ১ জানুয়ারি চেয়ারম্যান পরিষদে এসে তাঁর কক্ষে তালা ঝুলতে দেখে ফিরে যান। সেই থেকে কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। এতে বন্ধ থাকে দুস্থ নারীদের মধ্যে ভিজিডির চাল বিতরণ কার্যক্রম।

জানা যায়, গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডি তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনওর কাছে আবেদন করেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভিজিডির সুবিধাভোগী আটজনকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের পরিবর্তে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে আটজনকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ১৩ এপ্রিল চলতি মাসের ডিও দেওয়া হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান ইউনিয়নের দুস্থ নারীদের মধ্যে ভিজিডির চাল বিতরণে উদ্যোগী হননি।

পুড়াখালী গ্রামের উপকারভোগী মেরিনা বেগম বলেন, ‘১০ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। সংসার চালাতে এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে আমি মজুরের কাজ করি। চেয়ারম্যান-মেম্বরকে বলে একটা কার্ড নিয়েছি। কিন্তু এই চার মাসে কোনো চাল পাইনি। বেশি টাকা দিয়ে ঠিকমতো চাল কিনে খেতে পারছি না।’

অপর উপকারভোগী পাথালিয়া গ্রামের শিউলী বেগম বলেন, ‘স্বামী ভ্যান চালান। ঠিকমতো সংসার চলে না। বলেকয়ে এবার একটা কার্ড পেয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত চাল পেলাম না।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রাজকুমার পাল বলেন, চেয়ারম্যানকে চার মাসের ডিও দেওয়া হয়েছে। অতি দ্রুত চাল বিতরণের জন্য তাঁকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান যদি চাল বিতরণ না করতে পারেন, এটা তাঁর ব্যর্থতা। সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন