default-image

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকা চাষিকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া মামলার প্রধান অভিযুক্ত আল–আমিনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বিলপাড় গজারিয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আল–আমিন গজারিয়া গ্রামের আলা উদ্দিনের ছেলে। ফেসবুকে মৃত এক ব্যক্তির নামে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করার অভিযোগ এনে দুজনকে আসামি করে এই মামলা হয়। এতে আল–আমিনকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। আর একই গ্রামের কৃষক আবু জামানকে (৪৫) করা হয় ২ নম্বর আসামি। যদিও তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার প্রথম আলো অনলাইনে ‘চাষি আবু জামানের ফেসবুকের অ্যাকাউন্টই নেই, তবুও আসামি’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর জেলার কটিয়াদী থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন একই গ্রামের মিজানুর রহমান শিকদার। তিনি স্থানীয় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক। আবু জামানের বাড়ি বাজিতপুরে হলেও বর্তমানে তিনি কটিয়াদীতে অবস্থান করায় মামলাটি কটিয়াদী থানায় করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, মিজানুর রহমানের বাবা মারা যান গত বছরের ৪ অক্টোবর। এরপর থেকে আবু জামান ও আল–আমিন সমাজে তাঁদের হেয় করার অপচেষ্টা শুরু করেন। বিশেষ করে গত ৯ অক্টোবর তাঁর বাবার নাম উল্লেখ করে অশালীন ও আপত্তিকর কথাবার্তা লিখে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের কাছে পাঠান। পোস্টটি হয় ‘Md. Alamin’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। এই আইডি পরিচালনা করেন আলা উদ্দিনের ছেলে আল–আমিন। আইডিতে যা লেখা হয়েছে, সবই ছিল আবু জামানের প্ররোচনায়।

বিজ্ঞাপন

বাদী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার বাবা সমাজে প্রতিষ্ঠিত মানুষ ছিলেন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে মানতেন এবং সম্মান করতেন। কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে আসামিদের বিরোধ ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পরই দুজন আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে ফেসবুক ব্যবহার করেন।’

তবে মিজানুরের এমন অভিযোগ আবু জামান শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য হলো, তিনি পড়াশোনা জানেন না। স্মার্টফোনও ব্যবহার করেন না। কীভাবে ফেসবুক চালাতে হয়, সেটাও তাঁর জানা নেই। এই অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ এনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আল–আমিনও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

তবে কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনা অভিযোগ আল-আমিন স্বীকার করেছেন। এ ক্ষেত্রে আবু জামানের প্ররোচনার বিষয়টিও সামনে এনেছেন আল–আমিন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন