বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেজাউল করিমের বাড়ি গঙ্গাচড়ার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি রংপুর মহানগরে একটি বেসরকারি ক্লিনিক চালান। হাসপাতালে বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে গত বছরের ৮ জানুয়ারি, ২৬ জুন এবং সর্বশেষ চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এর আগেও তিনি দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর হাসপাতালে ফিরে কাজ শুরু করেন। মাত্র ১৩ দিন কাজ করার পরে ২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি বেতন–ভাতা নিয়ে আবার তিনি নিরুদ্দেশ হন। তখন থেকে হাসপাতালে আর আসেননি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ আছে ৩১টি। এর মধ্যে দুজন চিকিৎসা কর্মকর্তা উপজেলার বেতগাড়ি ও গজঘণ্টা ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা দেন। একজন চিকিৎসক রংপুর কারাগার হাসপাতালে এবং তিনজন করোনা হাসপাতালে প্রেষণে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ রয়েছে ১০টি। কর্মরত আছেন আটজন। চক্ষু ও হার্ট বিশেষজ্ঞ পদে চিকিৎসক নেই। শিশু বিশেষজ্ঞ সিফাত বিনতে করিম গত ৮ আগস্ট থেকে মাতৃত্বকালীন ৬ মাসের ছুটিতে রয়েছেন। এ কারণে শিশুদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

এখানে নার্সের পদ আছে ৩২টি। কর্মরত আছেন ২৯ জন। তৃতীয় শ্রেণির ৯৩টি মঞ্জুরি পদের বিপরীতে জনবল আছে ৬২ জন। চতুর্থ শ্রেণির দুটি পদ খালি রয়েছে। এখান থেকে গত ১০ মাসে অন্তর্বিভাগে ৪ হাজার ৩৫৫ জন, বহির্বিভাগে ৭৫ হাজার ৮০৮ জন এবং জরুরি বিভাগে ৬ হাজার ৯৮৭ জন চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, এখানে প্রায় প্রতিদিনই অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অস্ত্রোপচার করানো হয়। চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে দিনে গড়ে অন্তত ৫০০ জনকে। আয়ার পদ আছে মাত্র দুটি। এ পদে দুজন কর্মরতও আছেন। আয়ার কাজ হচ্ছে হাসপাতালের অভ্যন্তরে চিকিৎসাসেবায় নার্স ও চিকিৎসকদের সহযোগিতা করা। কিন্তু ওই দুজন আয়াকে দিয়ে কাজ সামাল দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় চিকিৎসকেরা নিজেরা চাঁদা দিয়ে আরও তিনজনকে রেখে হাসপাতালে আয়ার কাজ করাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) আসিফ ফেরদৌস বলেন, ‘হাসপাতালটি উপজেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল। কিন্তু জনবলসংকটে চিকিৎসাসেবায় কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে জরুরি জনবল প্রয়োজন। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ জন মানুষ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। আমরা কম জনবল নিয়েও দিন–রাত পরিশ্রম করে এখানে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। জরুরি ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রহরী নিয়োগ করা দরকার।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন