বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’টি ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর মহল্লায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। হাসপাতালটি স্থাপিত হয় ২০০৭ সালে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিন ভাইয়ের মালিকানায় চলছে বেসরকারি এ হাসপাতাল। তাঁরা হলেন ফরিদপুর সদরের কোমরপুর এলাকার মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে জাকারিয়া মোল্লা, আল হেলাল মোল্লা ও গোলাম কিবরিয়া।

প্রসূতির ননদ হোসনে আরা খান বলেন, শনিবার সকালে রূপার প্রসব বেদনা ওঠে। সকাল আটটার মধ্যে তাঁকে ফরিদপুরের মদিনা ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়। ওই ক্লিনিক থেকে জানানো হয়, চিকিৎসক আছেন। এখনই অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। কিন্তু তাঁরা নার্সকে দিয়ে অস্ত্রোপচার করিয়ে নবজাতকের কপাল কেটে ফেলেছে।

এ ব্যাপারে আল হেলাল মোল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি ধরেন আবদুল লতিফ নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে ওই ‘হাসপাতালের স্টাফ’ পরিচয় দিয়ে বলেন, চায়না বেগম (৪৫) হাসপাতালে কর্মরত একজন জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স। রূপা বেগম স্বাভাবিকভাবেই সন্তান প্রসব করছিলেন। কিন্তু শিশুটির মাথা বের হওয়ার সময় আটকে গেলে সেটি ছাড়াতে গিয়ে শিশুর মাথায় অস্ত্রের আঘাত লাগে। ওই নার্সের অস্ত্রোপচার করার কথা নয়। কেন সেটা তিনি করলেন, তা বুঝে ওঠা যাচ্ছে না।

এ ঘটনার খবর পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালটিতে যান ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ছিদ্দীকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার ও সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান।

ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, অস্ত্রোপচারের ফলে শিশুটির বাঁ ভ্রুর ওপরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। ওখানে নয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিশুটিসহ তার মাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রসূতির আত্মীয় মোস্তফা আমীর ফয়সাল বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শফিক খান বাদী হয়ে জাকারিয়া মোল্লা, মো. আল হেলাল মোল্লা, চায়না বেগম, চেয়ারম্যান রহিমা রহমানসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল গফফার বলেন, এ ঘটনায় জাকারিয়া মোল্লা, মো. আল হেলাল মোল্লা, চায়না বেগমসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন