বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
গ্রামের মানুষের কাছোত ১৫ হাজার দেনা করা হইছে। সেই টাকাও শেষ। বাকি চিকিৎসা যে কেমন করি চলবে, তা ওপর আলা জানে।’
আয়েশা বেগম, দগ্ধ শিশুর স্বজন

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ১০ বছরের দগ্ধ শিশু সুমাইয়া ৯ দিন থেকে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাবা দিনমজুর। শিশুটির পাশে থাকা নানি আয়েশা বেগম বললেন, ‘আগুন পোহাবার যায়া নাতির অবস্থা খুব খারপ। ছাওয়াটার কষ্ট দেখি চোখোতে পানি আইসে। গ্রামের মানুষের কাছোত ১৫ হাজার দেনা করা হইছে। সেই টাকাও শেষ। বাকি চিকিৎসা যে কেমন করি চলবে, তা ওপর আলা জানে।’

দিনাজপুরের খানাসামা থেকে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন জোছনা বেগম (৬০)। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর মুখ ও হাত আগুনে ঝলসে গেছে। চিকিৎসক ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিলেও অর্থের সংকটে তাঁকে ঢাকা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর পাশে থাকা ছেলে মহিরউদ্দিন জানান, গত শুক্রবার সকালে আগুন পোহাতে গিয়ে তাঁর মায়ের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর ওই দিন সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন, ‘কৃষিকাজ করিয়া দিন চলে। চিকিৎসার এত টাকা পাই কোনঠে। আত্মীয়স্বজনের কাছে ধারকর্জ করিয়া মায়ের চিকিৎসা করিচ্ছি।’

কনকনে শীতে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ ২১ জন এখনো চিকিৎসাধীন। ইতিমধ্যে দগ্ধ সামসুন্নাহার নামের এক নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

কোমর থেকে পিঠ পর্যন্ত আগুনে দগ্ধ হওয়ায় নাজমা বেগম (৪৫) হাসপাতালের শয্যায় উপুড় হয়ে শুয়ে আছেন। সাত দিন আগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে এখানে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর স্বামীও কৃষিকাজ করেন। পাশে থাকা বোন লাইজু বেগম বলেন, হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ পাওয়া গেলেও এরপরও প্রতিদিন বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে খরচ হয় এক থেকে দুই হাজার টাকা। ধারদেনা করে এই টাকা জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বার্ন ইউনিট সূত্র জানায়, কনকনে শীতে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ ২১ জন এখনো চিকিৎসাধীন। ইতিমধ্যে দগ্ধ সামসুন্নাহার নামের এক নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

default-image

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক এম এ হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসাধীন রোগীদের ২০ থেকে ৬০ শতাংশ শরীর বিভিন্ন স্থান আগুনে দগ্ধ হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার কোনো ত্রুটি করা হচ্ছে না। তবে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা অনেক দিন ধরে করতে হয় বলে ব্যয়বহুল।

হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, হাসপাতালে যা ওষুধ থাকে, তা রোগীদের সরবরাহ করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন