এদিকে মরিয়মকে সিলেটে স্থানান্তরের পর মানবিক টিম নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তার পাশে দাঁড়ায়। সংগঠনের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে শিশুটির কথা তুলে ধরে তার চিকিৎসার জন্য অর্থসহায়তা চান। এতে দেশ ও বিদেশের কিছু লোক সাড়া দেন। তাঁদের আর্থিক সহায়তায় শিশুটির চিকিৎসা চলতে থাকে। মরিয়মের পায়ে চার দফা অস্ত্রোপচার হয়। শেষ পর্যন্ত শনিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র মেলে। এরপর মানবিক টিমের সদস্যরা একটি অটোরিকশা ভাড়া করে স্বজনদের সঙ্গে তাকে কুলাউড়ায় পাঠান। শিশুটির চলাফেরার জন্য একটি হুইলচেয়ার ও ক্রাচ কিনে দেওয়া হয়েছে।

কাজের পাশাপাশি শিশু মরিয়মের চিকিৎসার ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজ রাখতেন টিমের প্রধান সমন্বয়ক সিলেট নগর পুলিশের (মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস) নায়েক পদে কর্মরত কুলাউড়ার বাসিন্দা সফি আহমদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শিশু মরিয়মের চিকিৎসা তহবিলে ৬০ হাজার টাকা জমা পড়ে। চিকিৎসায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকা তাঁদের হাতে আছে।

এ ছাড়া কুলাউড়ায় আরেকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাইদুর রহমান চৌধুরীর কাছে আরও প্রায় ২৪ হাজার টাকা জমা আছে। এসব টাকা দিয়ে মরিয়মের কৃত্রিম পা সংযোজন করে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে তাঁরা ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেছেন।

সফি আহমদ বলেন, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন তাঁদের সংগঠনের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে মরিয়মের সঙ্গে কিছু সময় কাটান ও গল্প করেন। এর আগে পয়লা বৈশাখে পরার জন্য সে শাড়ি আবদার করেছিল। সেই শাড়ি পেয়ে খুব খুশি হয় সে। পয়লা বৈশাখে মরিয়মের মা তাকে শাড়ি পরিয়ে হুইলচেয়ারে নিয়ে বেড়ান।

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর মরিয়ম খুশি হয়ে বলে, হুইলচেয়ারে করে সে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে, সহপাঠীদের সঙ্গে আবার দেখা হবে, এটাই এখন তার কাছে আনন্দের।

মরিয়মের মা আম্বিয়া বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‌‘জগতে ভালা মানুষ আছে। এর লাগি আমার মেয়েটা বাঁচছে। তাঁরার (চিকিৎসায় সহায়তাকারী লোকজন) লাগি আল্লাহর কাছে দোয়া করি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন