default-image

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ঈদ উপলক্ষে কোরবানির গোশত এবং খাবার দেওয়া হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখানে বড়ই দায়িত্বহীনতার কাজ করেছে। আমরা গতকাল পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপনাদের জন্য হয়তো কিছু উপহার দেবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত না দেওয়ার কারণে আমাদেরও আপনাদের কাছে উপহার পাঠাতে দেরি হয়ে গেল।’

ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তাসনিম আলম বলেন, সকালে তাঁরা হলে হলে মাংস বিতরণ করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসন এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। প্রশাসন হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদে কিছু করেনি। সেই জায়গায় ছাত্রশিবির একটি উদ্যোগ নিয়েছিল, সেটিও করতে দিল না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো সাধারণত ঈদের ছুটিতে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৭টি আবাসিক হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বেগম খালেদা জিয়া হলে শিক্ষার্থী না থাকায় মোট ১৬টি হল খোলা রয়েছে। ঈদে এসব হলে মোট ২২৬ জন শিক্ষার্থী আছেন। তবে হল খোলা থাকলেও এসব শিক্ষার্থীর জন্য ঈদে বাড়তি কোনো আয়োজন করেনি প্রশাসন।

ঈদে একটি হলের বাড়ি না যাওয়া শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু হলই খোলা রেখেছে। ডাইনিংসহ সবকিছু বন্ধ। ঈদের দিনও প্রশাসন হলে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুই করেনি।

শহীদ জিয়াউর রহমান হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, হলের প্রহরী তাঁকে মাংস নেওয়ার জন্য ডাক দেন। পরে তিনি মাংসের প্যাকেট খুলে দেখেন খামে একটি চিঠি। সেটি খুলে দেখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নাম। পরে আর তিনি মাংস নেননি। কিছু সময় পরই পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলের প্রাধ্যক্ষ জানিয়েছেন, সকাল সাতটার আগে বা পরে একটি মোটরসাইকেলে দুজন করে এসে মাংস ও একটি চিঠি দিয়ে যান। হলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রহরী মাংস গ্রহণ করতে না চাইলে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে বলেন যে তিনি পাঠিয়েছেন। কিছু হলের প্রহরীরা মাংস গ্রহণ করে প্রাধ্যক্ষদের জানিয়েছেন। আবার কিছু হলের প্রহরীরা মাংস গ্রহণ করেননি। প্রাধ্যক্ষরা জানতে পেরে শিক্ষার্থীদের মাংস দিতে বারণ করেন প্রহরীদের।

একটি হলের প্রাধ্যক্ষ বলেন, প্রহরীরা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। সাধারণত হলে কোনো কিছু গ্রহণের আগে প্রাধ্যক্ষকে জানাতে হয়। কিন্তু কোনো কোনো প্রহরী মাংস গ্রহণ করে পরে প্রাধ্যক্ষদের জানিয়েছেন। এ নিয়ে আজ মঙ্গলবার জরুরি সভা হয়েছে। সভায় এসব প্রহরীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর মাংসগুলো একত্র করে রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। শুনেছেন ইসলামী ছাত্রশিবির মাংস ও লিফলেট দিয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ সভা করেছে।

সভার বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ফেরদৌসি মহলকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলী বলেন, তাঁরা ঘটনা শোনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন