default-image

কটূক্তি সহ্য করতে না পেরে ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূ (২৪) রোববার দিবাগত রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আত্মহত্যার চেষ্টার আগে ওই গৃহবধূ পরিবারের লোকজনের উদ্দেশে একটি চিরকুট লেখেন। চিরকুটে কটূক্তির বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। রোববার মধ্যরাতে রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

গত ১৮ জানুয়ারি দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে নগরের বোয়ালিয়া থানায় একটি ধর্ষণের মামলা করেন। মামলায় রাজশাহী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মঈন উদ্দিন ওরফে আজাদকে (৪২) আসামি করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি নাটোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ট্রেনে যাতায়াতের সময় ওই স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে এই গৃহবধূর পরিচয় হয়। এরপর তাঁদের মধ্যে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথা হতো। স্টেশন মাস্টার ওই নারীকে রেলওয়েতে একটি চাকরি দিতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তাঁর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। চাকরির প্রস্তুতির বই দেওয়ার নামে ১৭ জানুয়ারি তিনি ওই নারীকে তাঁর বাসায় ডাকেন। ওই নারী বাসায় গেলে ফাঁকা বাসায় আজাদ তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরদিন ওই নারী মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে গৃহবধূর শয্যার পাশে তাঁর স্বামীকে দেখা যায়। তিনি বলেন, রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে ভাড়া বাসায় অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের পাশাপাশি হারপিক পান করেন তাঁর স্ত্রী। অনেক ডেকেও সাড়া না পেয়ে পুলিশে ফোন করা হয়। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে। এরপর তাঁকে দ্রুত রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

গৃহবধূর স্বামী আরও বলেন, আসামি এখনো কারাগারে আছেন। শনিবার আদালতে এ মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। সেখানে আসামিপক্ষের লোকজন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেন। আর আরমান আলী নামের এক ব্যক্তি আসামির পক্ষ থেকে মামলাটি মীমাংসা করে নেওয়ার চাপ দিচ্ছিলেন। আসামির ভগ্নিপতি মনু মিয়াও তাঁর স্ত্রীর নামে এলাকায় নানা বাজে কথা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এসব সহ্য করতে না পেরে তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।

গৃহবধূর স্বামী একটি চিরকুট দেখান। সেটি তাঁর স্ত্রীর লেখা বলে তিনি দাবি করেন। চিরকুটে ধর্ষণের মামলা করায় নানা কটূক্তির কথা উল্লেখ করা আছে। যাঁরা এসব কটূক্তি করছেন, তাঁরা যেন ছাড় না পান, সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে ওই চিরকুটে। এ ছাড়া নিজের দুই সন্তানকে দেখে রাখার জন্য স্বামী ও মায়ের কাছে আকুতি জানিয়েছেন ওই গৃহবধূ।

নগরের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ধর্ষণের মামলার পর আসামি জামিন নেননি। তাঁর বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, বরং অন্য জায়গায় বদলি করেছিল। দু-এক দিনের মধ্যেই ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর এ ব্যাপারে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন