স্বজনেরা বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে সেতু ছোট। তিনি ২০১১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। সর্বশেষ চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বিশেষ শাখায় (সিটিএসবি) কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে হেমসেন লেন এলাকায় হেঁটে যাওয়ার সময় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি সেতুকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। গাড়িসহ চালককে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ আটক করেছে।

বুধবার দুপুরে সেতুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে প্রচুর মানুষের ভিড়। কাঁচা ঘরের ভেতর বিলাপ করে কাঁদছেন সেতুর মা। তিনি বলেন, এ বছরের জানুয়ারির শুরুতে বাড়িতে আসেন সেতু। এক সপ্তাহ আগে তিনি মুঠোফোনে ছেলেকে বাড়িতে আসতে বলেন। কিন্তু ছুটি পাচ্ছিলেন না বলে বাড়িতে আসতে পারছিলেন না তাঁর ছেলে। সর্বশেষ সোমবার রাতে তাঁর সঙ্গে কথা হয় সেতুর। তখন সেতু তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি ওষুধ খেয়েছেন কি না। এ কথা বলতেই আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন অঞ্জনা। বিলাপ করে বলতে থাকেন, ‘এখন ওষুধ খেয়েছ কি না, আমাকে জিজ্ঞাসা করবে কে?’

default-image

ঘরের বাইরে কাপড়ের শামিয়ানার ভেতর সেতুর শেষকৃত্যের প্রস্তুতি চলছিল। সেখানে চেয়ারে বসে কাঁদছিলেন সেতুর বাবা। এক স্বজন তাঁকে জড়িয়ে ধরে আছেন। তিনি কোনো কথাই বলতে পারছেন না। এ সময় উপস্থিত স্বজনেরা বলেন, বাড়ির পাশে বৌদ্ধবিহারের উঠানে শেষকৃত্য হবে সেতুর।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন