default-image

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের কেশবপুরে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) একটি প্রতিনিধি দল। এর আগে ২০০১ সালে উপজেলার আমবাড়ি কুতুবপুর (জিডিএইচ-৫৯) এলাকায় একইভাবে অনুসন্ধান করা হয়। সে সময় কেশবপুর এলাকাতেও ভূপদার্থিক জরিপ শেষে খনিজ সম্পদের সম্ভাব্যতা দেখে তারা। সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুতে কেশবপুরে খনিজ সম্পদের সম্ভাব্যতা ও যাচাই কার্যক্রম শুরু করেন জিএসবি কর্মকর্তারা।

আজ কেশবপুরে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক বিঘা জমিতে তারকাঁটার বেড়া দেওয়া হয়েছে। আনা হয়েছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। মাড পাম্প বানানো হয়েছে। চলছে রিগ ফাউন্ডেশন ঢালাইয়ের কাজ। ড্রিলিং কার্যক্রম প্রস্তুতির এক–তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাজের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ড্রিলিং প্রকৌশলী) মাসুদ রানা। অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন উপপরিচালক মিনহাজুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসেন, মঞ্জুর আহমেদ এলাহী ও রোকনুজ্জামান।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান করা ভূতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের একটি রুটিন কাজ। কেশবপুরে যেহেতু ভূপদার্থিক জরিপ সম্পন্ন হয়েছে এবং জরিপে সম্ভাব্যতা মিলেছে তারই ধারাবাহিকতায় ড্রিলিং কার্যক্রম শুরুর পূর্বপ্রস্তুতি চলছে। জমির মালিককে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমিটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রাংশ আনা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ড্রিলিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন জিএসবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক আবদুল আজিজ পাটোয়ারি স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট পাঠানো হয়। চিঠিতে জানানো হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট এলাকায় জিডিএইচ ৭৬/২১ কূপ খনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। সেখানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা প্রায় চার মাস অবস্থান করবেন। তাঁদের আনুষঙ্গিক সহায়তা, নিরাপত্তা, তথ্য–উপাত্ত সরবরাহসহ সংশ্লিষ্ট কাজে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। প্রাথমিক পর্যায়ে জিওফিজিক্যাল সার্ভে থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কাজে নেমেছি। ৫০০ মিটারের অধিক খনন করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ২০০ মিটার গভীরে মেটালিক মিনারেল (ম্যাগনেট আকর্ষণ করে এমন পদার্থ) থাকতে পারে। পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি থাকতে পারে। ড্রিলিং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমানের ভিত্তিতে কিছু বলা যাবে না।’

উল্লেখ্য ২০১৯ সালের জুন মাসে দিনাজপুরের হাকিমপুরের ইসবপুর গ্রামে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ড্রিলিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে। পরে কর্মকর্তারা ভূগর্ভের ১ হাজার ৩০০ ফুট থেকে ১ হাজার ৬৫০ ফুটের মধ্যে লোহার একটি স্তর পাওয়ার কথা জানান, যার আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার। খনিতে লোহার মানও ৬০ শতাংশের ওপর। এ ছাড়া ইসবপুরে ৫০০-৬০০ মিলিয়ন টন লোহাসহ মূল্যবান পদার্থ কপার, নিকেল, ক্রোমিয়াম রয়েছে বলেও জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন