default-image

চুয়াডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর মল্লিক হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ১১ জন আসামির মধ্যে ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম আনাস উদ্দিন (৫৫)। তিনি ছয়ঘরিয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আনাস হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ভবতোষ রায় বলেন, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

আলোচিত এই হত্যা মামলার আসামিদের ধরতে জেলা আওয়ামী লীগ শনিবার পর্যন্ত যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে তারা। আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে ভাবছে জেলা যুবলীগ। এরই মধ্যে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দারকে ১ নম্বর আসামি করায় যুবলীগের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দার প্রথম আলোকে বলেন, জাহাঙ্গীর মল্লিক হত্যা মামলার শীর্ষ আসামিদের ধরতে জেলা আওয়ামী লীগ আগের অবস্থানেই আছে। শনিবারের মধ্যে শীর্ষ আসামি ধরা না পড়লে রোববার আধা বেলা হরতাল পালন করা হবে।

এদিকে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান দাবি করেন, দলের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দার বুধবার মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত বিভিন্ন অনু্ষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। অথচ মামলায় তাঁকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। জিল্লুর প্রশ্ন করেন, তিনি যেখানে উপস্থিতই ছিলেন না, সেখানে তিনি কীভাবে হুকুম দিলেন?

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর মল্লিককে (৩৫) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত জাহাঙ্গীর মল্লিক উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের নুরুলুল্লাহপুর গ্রামের রনজেদ মল্লিকের ছেলে। তিনি তিতুদহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিতুদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শুকুর আলীর হয়ে ব্যবসা দেখাশোনা করতেন জাহাঙ্গীর।

এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর মল্লিকের বাবা রনজেদ মল্লিক বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দার, যুবলীগ কর্মী মোমিন, ইসহান, লিমন হোসেন, শাকিব হোসেনসহ ১১ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শংকরচন্দ্র ও তিতুদহ ইউনিয়ন এলাকায় সম্প্রতি খনন করা চিত্রা নদীর পাড়ের মাটি লুট ও আশপাশের কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লাগে। এই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন