বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, ইমদাদুলের নামে এর আগে শহরের কেদারগঞ্জ এলাকার গোলাম হোসেনকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগ নেতা আইনজীবী শফিকুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টা মামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত কিশোর গ্যাং চুয়াডাঙ্গা শহরে বেপরোয়াভাবে একের পর এক অপরাধ করে চললেও ভয়ে অনেকেই মামলা করতে সাহস পান না। এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অসংখ্য অপরাধের তথ্য–প্রমাণ প্রতিদিন পুলিশের হাতে আসছে। ৭ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা শহরের গুলশান পাড়ায় আলহেলাল মাধ্যমিক ইসলামি একাডেমিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে হামলা চালিয়ে মাহবুবুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে এই গ্যাং। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই মারা যায় মাহবুবুর। শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সামনে প্রকাশ্যে দিনের আলোয় এই খুনের ঘটনা ঘটিয়ে নিরাপদে এলাকা ছাড়ে হামলাকারীরা।

৭ নভেম্বর শহরের আলহেলাল মাধ্যমিক ইসলামি একাডেমিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে হামলা চালিয়ে মাহবুবুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
default-image

এই খুনের ঘটনায় নিহতের ভাই শহরের নুরনগর-কলোনিপাড়ার মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ, অজ্ঞাতনামা ৩ জনসহ ১০ জনকে আসামি করে ৮ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামিরা হলেন শহরের দক্ষিণ গোরস্তান পাড়ার সিহাব আলী, ফার্মপাড়ার ইমন হোসেন, শান্তিপাড়ার রূপক হোসেন, ইমদাদুল হক আকাশ ও সুমন হোসেন, ফার্মপাড়ার সাদিক ও শান্তিপাড়ার নাবিল। পুলিশ ৮ নভেম্বর এজাহারভুক্ত আসামি সুমন হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তুললে তাঁকে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ ইমদাদুল হক আত্মসমর্পণ করলেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এই দুজনের বিরুদ্ধেই হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট মামলার সংখ্যা ১৬।

এই হত্যা মামলার এজাহারে হত্যার পেছনে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে স্থানীয় লোকজন জানান, সম্প্রতি নূরনগর-কলোনি এলাকায় আঁকাবাঁকা করে মোটরসাইকেল চালানো কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে মাহবুবুর ও তার বন্ধুদের বিরোধ তৈরি হয়। ধারালো অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সিহাবকে পুলিশেও সোপর্দ করা হয়। সেই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এই খুনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে নূরনগর এলাকার অনেকেরই ধারণা। তবে পুলিশের তদন্ত এগোচ্ছে একটি কিশোর প্রেমকে ঘিরে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন প্রথম আলোকে বলেন, আলোচিত এই হত্যা মামলার বাকি আসামিদের ধরতে একাধিক টিম কাজ করছে। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা থেকে কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে যা যা করার সবই করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন