বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

থানা সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০ এপ্রিল এক নারী সদর থানায় ধর্ষণের একটি মামলা করেন। মামলার অপর আসামি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক শাহীন।

ধর্ষণ মামলার জন্য চেয়ারম্যান একেক সময় একেকজনকে দায়ী করছেন। মাঝেমধ্যে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও করছেন তিনি। ফারুকুজ্জামানের বিশ্বাস, ধর্ষণ মামলা করা তাঁর বিরোধী হিসেবে পরিচিত স্কুলশিক্ষক মাহবুবুল আলম, ইউপি সদস্য বদরুল হাসানদের কাজ। এসবের মধ্যেই গত রবি ও সোমবার হামলার স্বীকার হন চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষের লোকজন।

আহত স্কুলশিক্ষক মাহবুবুল আলম বলেন, এক প্রতিবেশীর ছেলের খতনার অনুষ্ঠান বিষয়ে বাড়ির পাশেই রোববার রাত আটটার দিকে কয়েকজন আলাপ–আলোচনা করছিলেন। এমন সময় চেয়ারম্যান ফরিদের লোকজন অতর্কিত হামলা চালান তাঁদের ওপর। পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয় তাঁদের। মাহবুবুল আলম দাবি করেন, তাঁর দুই পা ও একটি হাত পিটিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তাঁদের ওয়ার্ডের সদস্য বদরুল হাসানকেও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

স্থানীয় একটি সুত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হওয়ার পর তাঁর সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। পাঁচজনকে আহত করার পরদিন বাকড়ি গ্রামে আবার হামলা চালান চেয়ারম্যানের লোকজন। ভয়ে তখন এলাকাছাড়া হন নুর আমিন মিয়া, শওকত হোসেন খান, আবদুল মজিদ খান, নুর আলম, ইফসুপ আলী বিশ্বাস, আনন্দ বিশ্বাস, বিল্লাল হোসেনসহ অন্তক ১৫ জন।

অপর একটি সুত্র জানিয়েছে, হরিশংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনো বিদ্যমান। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচির ৪০ দিনের প্রকল্পের কাজ নিয়ে ইউপি সদস্য বদরুলের সঙ্গে চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামানের বিরোধ হয়। বদরুল স্কুলশিক্ষক মাহবুবুল আলমের সমর্থক। এসবের মধ্যে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা চেয়ারম্যান ও তাঁর অনুসারীদের উত্তেজিত করে তুলেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান খন্দকার ফারুকুজ্জামান। গতকাল মঙ্গলবার মুঠোফোনে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনিত হামলার অভিযোগ মিথ্যা। বিরোধী একটি পক্ষ সম্মানহানির জন্য মিথ্যা কথা রটাচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি বাইরে ছিলেন, মুঠোফোনটিও বন্ধ ছিল। প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন