বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই আট ঘরের মধ্যে একটি নির্মাণ করা হয়েছে চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর গ্রামে। এ গ্রামেই বাড়ি ইউপির চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ সরকারের। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে চেয়ারম্যানের বাড়িতেই। ঘরের নামফলকে মালিকের নাম লেখা সিদ্দিকুর রহমান। তিনি চেয়ারম্যানের আপন ভাতিজা। তবে ঘরে কাউকে পাওয়া যায়নি।

ওই ঘর নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায় তারা। পরে ওই তদন্ত প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার বিভাগের পাঠানো হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১২ জুলাই ইউপি চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার উপসচিব আবুজাফর রিপনের সই রয়েছে। এতে বলা হয়, স্বজনপ্রীতি করে নীতিমালার আলোকে প্রাপ্য না হলেও আপন ভাতিজা সিদ্দিকুর রহমানের নামে দুর্যোগসহনীয় ঘর দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগে কেন তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে না, এর জবাব নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জামালপুরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের পাঠাতে বলা হয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ সরকারের মুঠোফোন নম্বরে ফোন দেন এ প্রতিবেদক। কথা শুরুর পর ওই প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, গৃহহীন ব্যক্তিদের জন্য সরকার ওই প্রকল্প নিয়েছে। সেই প্রকল্পের টাকায় আপন ভাতিজার নামে চেয়ারম্যানের নিজের বাড়িতে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম দিকে গ্রামের লোকজন নানা রকম সমালোচনা করেছেন। প্রকল্পের বাকি সাতটি ঘরও সচ্ছল ব্যক্তিদের দিয়েছেন চেয়ারম্যান। বিনিময়ে তিনি ২০ থেকে ৫০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মুর্শেদা জামান প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে ঘর বরাদ্দে স্বজনপ্রীতির অভিযোগের সত্যতা মিলেছিল। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের নির্দেশনা মেনে চেয়ারম্যান ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিয়েছেন। সেটি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এখন সেখান থেকেই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন