default-image

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে স্থানীয় সাংসদের ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে জোর করে সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।

এর আগে ৪ মার্চ মাড়িয়া ইউপির চেয়ারম্যান আসলাম আলী ওরফে আসকানের বিরুদ্ধে সদস্যদের অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয় জেলা প্রশাসকের কাছে। সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান আসলাম আলী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তদন্তে সেসব মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু এখনো ষড়যন্ত্র চলছে।

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে স্থানীয় সাংসদের ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে জোর করে সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তাঁকে আবারও প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাংসদ এনামুল হকের ভাই রেজাউল হকও প্রার্থী হতে চান। তিনি আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন অভিযোগ করে যাচ্ছেন। ওয়ার্ড সদস্যদের কাছ থেকে জোর করে অনাস্থা প্রস্তাবে সই নিয়েছেন। এ কারণে তিনজন সদস্য থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে অনাস্থা প্রস্তাবে সই নেওয়া হয়েছিল। সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য মর্জিনা বেগম বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়েও তাঁকে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করাতে পারেনি। তাই অনাস্থা প্রস্তাবে তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়। আরেক নারী সদস্য পলি বেগম বলেন, রেজাউল হক তাঁকে ফোন করে স্বাক্ষর করার জন্য বলেন। কিন্তু তিনি সই দিতে রাজি হননি। তাই গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে ১০-১২ জন লোক নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সই নিয়ে আসেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আবদুস সামাদ, নূর মোহাম্মদ, হাফিজুর রহমান প্রমুখ। চেয়ারম্যান আসলাম আলী বলেন, তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর বিপক্ষে রেজাউল হক ২০১৬ সালের নির্বাচনে দলীয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। তারপর থেকে রেজাউল তাঁর পেছনে লেগেছেন। নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। তিনি ইউপি সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবে সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করে যাচ্ছেন। এতে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

আমি কারও সই জাল করেননি বা জোর করে নিইনি। সবাই নিজ ইচ্ছায় সই দিয়েছিলেন। এখন তাঁরা টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যানের ভয়ে প্রভাবিত হয়ে ‘ইউটার্ন’ নিয়েছেন। সই তাঁরা দিয়েছেন কি না, সেটা পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে।
রেজাউল হক, সাংসদের ভাই

চেয়ারম্যান আরও বলেন, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য। এ ছাড়া তিনি মাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুবারের সভাপতি। দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণও।

সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কারও সই জাল করেননি বা জোর করে নেননি। সবাই নিজ ইচ্ছায় সই দিয়েছিলেন। এখন তাঁরা টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যানের ভয়ে প্রভাবিত হয়ে ‘ইউটার্ন’ নিয়েছেন। সই তাঁরা দিয়েছেন কি না, সেটা পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে। তিনি বলেন, বর্তমান এই চেয়ারম্যান এলাকায় অনেক দুর্নীতি করেছেন। এটা এলাকার সবাই জানে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন