প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি আমলে নেন হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পবন চন্দ্র বর্মণ। তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এতে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সেই হিসেবে মঙ্গলবার ছিল প্রতিবেদন জমার শেষ দিন। মাধবপুর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক মঙ্গলবার আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষিজমির ওপর বাঁধ নির্মাণ এবং মাটি খনন ও ড্রেজার মেশিন স্থাপনের সত্যতা খুঁজে পায়। এই কাজ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০–এর ৪ ও ৫ ধারার লঙ্ঘন। এ ছাড়া মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মাঈনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে এসবের সত্যতা পান। তিনি এ কাজে জড়িত থাকায় সাইফুল ইসলামকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন।

পুলিশের এই প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাঁরা বলছেন, ইউপি চেয়ারম্যান সামসুলের নাম আড়াল করতেই পুলিশ তাঁর ভাই সাইফুলকে সামনে এনেছেন।

ইউএনওর কাছে অভিযোগকারী মাল্লা গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল পাঠান, জামাল মিয়া ও লিটন মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান সরাসরি এই কাজে জড়িত। এই হাওরে তাঁর তেমন কোনো জমি নেই। তিনি প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমির ওপর বাঁধ দিয়েছেন। ড্রেজার দিয়ে মাটি তুলে বিক্রি করছেন। পুলিশের তদন্তে চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা না মেলায় তাঁরা বিস্মিত। অন্য কোনো সংস্থা দিয়ে পুনরায় তদন্ত করার দাবি জানান তাঁরা।

মাধবপুর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের তদন্তে চেয়ারম্যানের ছোট ভাই সাইফুলের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তিনি পারিবারিক সম্পত্তির ওপর ওই বাঁধ নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইফুলকে ও তাঁকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। এসব কারণে চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন