বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। তারই অংশ হিসেবে আজ ভোরে ঢাকার কমলাপুর এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি তফাজ্জুল আলী ও তাঁর অন্যতম সহযোগী খালেদ মিয়াকে (৫৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) এ বি এম মুজাহিদুল ইসলাম। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে অংশ নেয়। তফাজ্জুল আলীর কাছ থেকে একটি পাসপোর্ট, এমিরেটস এয়ারলাইনসের টিকিট, দুটি ড্রাইভিং লাইসেন্স, দুটি মুঠোফোন, দেশি-বিদেশি পাঁচটি সিমকার্ড এবং ৩৩৮ দিরহাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ১ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র, মাইক্রোবাসসহ এজাহারভুক্ত আসামি জুয়েল মিয়া (৪৫) ও কাজী আমির হোসেন হিরাকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার তফাজ্জুল আলী জানিয়েছেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার জন্য আগে থেকেই তাঁর বিমানের টিকিট কাটা ছিল।

পুলিশ সুপার বলেন, তফাজ্জুল আলী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, গত বছরের ২ জুন নাজমুল হাসান গ্রেপ্তার জুয়েল মিয়ার ওপর হামলা করে তাঁকে পঙ্গু করে দেন। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই হামলার পর থেকেই নাজমুল হাসানের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গত দুই-তিন মাস থেকে নাজমুলের ওপর নজরদারি ছিল। নজরদারির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নাজমুল হাসান চৈত্রঘাট বাজারে বাসা ভাড়া করে বসবাস করতে থাকেন। প্রয়োজন ছাড়া একা কোথাও যেতেন না। আসামিরা তাঁদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ঘটনার ১৫-২০ দিন আগে থেকে দলবদ্ধভাবে তাঁর ওপর নজরদারি করতে থাকে। হামলার কাজ দ্রুত শেষ করতে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করা হয়। ঘটনার দিন ৩১ অক্টোবর চৈত্রঘাট কালীমন্দিরের সামনে মাইক্রোবাস অপেক্ষা করছিল। এদিন বাজার কিছুটা জনশূন্য এবং নাজমুল হাসান একা থাকার সুযোগে তফাজ্জুল আলীর নেতৃত্বে হামলা করা হয়। এরপর তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। তফাজ্জুল আলী জানিয়েছেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার জন্য আগে থেকেই তাঁর বিমানের টিকিট কাটা ছিল।

পুলিশ সুপার বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও ধলাই নদের বালু নিয়ে আগে থেকেই দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ-রেষারেষি ছিল। বিভিন্ন সময় তাঁদের মধ্যে আরও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব বিষয়ে মামলাও হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চৈত্রঘাট বাজারে কয়েক মাস আগে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। যিনি নিহত হয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধেও মারামারির কয়েকটি মামলা আছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীর দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

গত রোববার দুপুরে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের চৈত্রঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসানকে তাঁর বাড়ির সামনে কোপায় দুর্বৃত্তরা। ওই দিন সন্ধ্যায় সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহত নাজমুল হাসানের বড় ভাই শামসুল হক বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সময়কার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নাজমুল হাসান হেঁটে তাঁর বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস এসে তাঁর সামনে থামে। গাড়ি থেকে নেমে একজন তাঁকে ধাওয়া করে। তিনি উল্টো দিকে দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু রাস্তায় পড়ে যান। গাড়ি থেকে নেমে আসা অন্য দুর্বৃত্তরা তাঁকে ঘিরে পায়ের দিকে কোপাতে থাকে। চার-পাঁচজনকে কোপাতে দেখা গেলেও হামলায় অন্তত ১০ জন অংশ নেন। পরে মাইক্রোবাসটি ঘটনাস্থল থেকে মৌলভীবাজারের দিকে চলে যায়। পুরো হামলার ঘটনাটি প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে। এ সময় আশপাশে দু-একজনকে দেখা গেলেও কেউ নাজমুল হাসানকে সাহায্যে এগিয়ে আসেননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন