default-image

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। আর সেই নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত নারী সদস্যকে আজ শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ওই ইউপি সদস্যের নাম নাজমা বেগম (৪৮)। তিনি উপজেলার কনেশ্বর ইউপির ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইউপি সদস্য নাজমা বেগমকে আসামি করে থানায় মামলা করেন নির্যাতনের শিকার যুবক আবদুল কাদেরের বড় ভাই রেজাউল করিম। তাঁদের বাড়ি উপজেলার ধানকাঠি গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কনেশ্বর ইউপি-সংলগ্ন জায়গায় নির্মাণ হচ্ছে ডামুড্যা উপজেলা মডেল মসজিদ। মসজিদের নতুন ভবন নির্মাণশ্রমিকদের থাকার কক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি মোবাইল ও চারটি চার্জার চুরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে ওই কক্ষ থেকে আরও একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। ওই দিন মানসিক প্রতিবন্ধী আবদুল কাদেরকে কক্ষের কাছে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন নির্মাণশ্রমিকেরা। এতে তাঁদের সন্দেহ হয় আবদুল কাদের এসব চুরি করেছেন। শ্রমিকেরা কাদেরকে ধরে মারধর করেন। পরে ইউপি সদস্য নাজমা বেগমের নির্দেশে তাঁকে কনেশ্বর ইউপি–সংলগ্ন একটি সৌরবিদ্যুতের স্ট্রিট লাইটের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। মারধরের ওই ভিডিও গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

৩ মিনিট ৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, যুবক আবদুল কাদেরকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাঁকে ঘিরে রেখেছেন ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি। মোবাইল আবদুল কাদের কোথায় রেখেছেন, তা বারবার জানতে চাচ্ছেন ইউপি সদস্য নাজমা। তাঁর হাতে একটি লাঠি। তিনি সেটি দিয়ে কাদেরকে শাসাচ্ছেন, একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে তাঁকে আঘাত করছেন।

বিজ্ঞাপন

ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মর্তুজা আল মুঈদ প্রথম আলোকে বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। বৃহস্পতিবার ওই ইউপির আইনশৃঙ্খলা বিষয়ের সভা ছিল। প্রসঙ্গক্রমে সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি জানতে পারেন, ওই যুবক শ্রমিকদের দুটি মোবাইল ফোন না বলে নিয়েছিলেন এবং একটি ফেরতও দিয়েছিলেন। আরেকটি মোবাইলের জন্য শ্রমিকেরা তাঁকে চাপ প্রয়োগ করছিলেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন ও মারমুখী হন। তাঁকে বেঁধে রাখেন। ইউপি সদস্য নাজমা শ্রমিকদের বাধা দেন। পরবর্তী সময়ে নাজমা যা করেছেন, সেটা কাম্য ছিল না। তিনি ওই যুবককে গালিগালাজ করেছেন এবং লাঠি দিয়ে মৃদু আঘাত করছেন। এটা না করে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করতে পারতেন। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি।

নির্যাতনের শিকার আবদুল কাদেরের ভাই রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার ভাই সহজ-সরল ও মানসিক প্রতিবন্ধী। সে অন্যায় করে থাকলে আমাদের জানাতে পারত বা পুলিশকে খবর দিতে পারত। কিন্তু এভাবে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা কি উচিত হয়েছে? আমরা গরিব মানুষ বলে কী সমাজে আমাদের কোনো সম্মান নেই?’

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আলী বলেন, এক যুবককে বেঁধে মারধর করা ও মানসিক নির্যাতনের একটি ভিডিও তাঁদের কাছে এসেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত, ভিডিও দেখে তা শনাক্ত করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন