বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ইউনিক ওয়ার্ল্ড লিমিটেড নামের একটি ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান গত অক্টোবরে চৌগাছা শহরের পুরোনো সোনালী ব্যাংক ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘ইউনিক মার্ট’ ও ‘ইউনিক রেস্টুরেন্ট’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান খোলে। ইউনিক ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মালিবাগ রেলগেট এলাকায়। তারা দেশের ৬৪ জেলায় সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট, কোমল পানীয় প্রতিষ্ঠান, জুতার কারখানা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করে সেখান থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে নিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের আইডি খোলে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তারা চৌগাছা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষ ও চৌগাছার ডিভাইন কফি শপে ইউনিক মার্ট সুপারশপের বিভিন্ন কনফারেন্সের মাধ্যমে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করে। বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেয়। কোম্পানির উপপরিচালক চৌগাছা উপজেলার মাড়ুয়া গ্রামের রাজু আহাম্মেদ ওরফে সোহাগ, সুপারশপ তত্ত্বাবধায়ক আন্দারকোটা গ্রামের আক্তারুল ইসলাম, মার্কেটিং কর্মকর্তা চৌগাছা শহরের শাহারিয়ার নাফিস, কারিগরপাড়ার বাসিন্দা মিন্টু মিয়া, তাঁর ছেলে আল মাসুদ, মেয়ে জুলেখা জামান ও মেয়ের জামাই মো. মনিরুজ্জামানের মাধ্যমে তাঁরা কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হন।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার বাকপাড়া গ্রামের হাসিবুল হাসানের সাড়ে ১০ লাখ টাকা, নাজমুল কবীরের সাড়ে ৭ লাখ, রেহেনা পারভীনের ৩ লাখ, রুমা আক্তারের ২ লাখ, জাহিদ হাসানের ৪ লাখ, বাড়িয়ালী গ্রামের আবদুর রশিদের ৪ লাখ, ফুলসারা গ্রামের ফয়সাল আহমেদের ২ লাখ ৬০ হাজার, রহমাত আলীর ১৬ লাখ, মুনজুরুল সোহাগের ১২ লাখ ১৫ হাজার, মারুফ হোসেনের ১ লাখ ৩২ হাজার, ইকরামুল ইসলামের ২ লাখ, রেজওয়ান আহমেদের ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এসব টাকার বিপরীতে গ্রাহকদের বিভিন্ন অঙ্কের টাকার চেক দেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেই ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা অভিযোগ করেন, চৌগাছা উপজেলার যাঁরা কোম্পানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাঁদের মুঠোফোনও বন্ধ। এ ছাড়া কোম্পানির ঢাকা কার্যালয়ের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান হীরা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম, পরিচালক (প্রশাসন) মাসুদ রানা ও চৌগাছা উপজেলা কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাঁরা সাড়া দিচ্ছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ভুক্তভোগী রহমত আলী, ফয়সাল আহমেদ, হাসিবুল হাসান, নাজমুল কবীর, জিহাদ হোসেন, আমীর হামজা, রেজওয়ান ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন