বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরে জনসংখ্যার অনুকূলে এবং পুষ্টিচাহিদার ভিত্তিতে ছাগলের চাহিদা রয়েছে ৬ হাজার ৫৬০টি। সেখানে উৎপাদিত হয়েছে ৬ হাজার ৬০৭টি ছাগল। এসব ছাগল মৌসুমি খামারি, সাধারণ খামারি এবং নিবন্ধিত ১ হাজার ৬০৫ জন খামারি উৎপাদন করেছেন। ওই উপজেলায় যমুনাপাড়ি ও ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের শংকর–জাতীয় ছাগল উৎপাদিত হয়েছে।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পশুর হাট বন্ধ থাকায় খামারিরা চরম লোকসানের মধ্যে পড়েছেন। অনলাইনে কিছু বেচাকেনা চলছে। তবে উপজেলার খামারি ও বাড়িতে যাঁরা ছাগল পালন করেন, তা তাঁদের নাগালের বাইরে রয়েছেন। ক্রেতা–বিক্রেতারা এই মাধ্যম সম্পর্কে তেমন পরিচিত নন। সব মিলেয়ে ছাগল তেমন বিক্রি হচ্ছে না। খামারে এসে কেউ ছাগল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। দু-একজন এলেও দাম বলছেন অনেক কম।

সুজাপুর গ্রামের খামারি শংকর দাস জানান, তাঁর খামারে ৭০টি ছাগল রয়েছে। ভুসি, খুদ, ঘাস ও মজুরিবাবদ প্রতিদিন ৪ হাজার ৪৫০ টাকা খরচ হয়। ছাগলগুলো সব মিলিয়ে ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বিক্রি হওয়ার কথা। গত সোমবার পর্যন্ত একটি ছাগলও বিক্রি হয়নি। খামারের জন্য ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। ছাগলের খাবার কিনতে ও দোকানে বড় ধরনের দেনা হয়েছে।

করোনার কারণে ঈদের আগেই অনেক খামারি কম দামে ছাগল বিক্রি করে দিয়েছেন। এ রকমই একজন পাঁচারই গ্রামের খামারি রোবাইয়েত হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদে ছাগল বিক্রি হবে না মনে করে দুই মাস আগেই খামারের ছাগল বিক্রি করে দিয়েছি। দাম কম হওয়ায় কিছুটা লোকসান হয়েছে।

কেশবপুর প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন অলোকেশ সরকার বলেন, এ বছর উপজেলায় চাহিদার চেয়ে ছাগল উৎপাদন হয়েছে বেশি। করোনার কারণে হাটগুলো বন্ধ থাকায় আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না খামারিরা। এ কারণে তাঁরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন