default-image

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ছাগল চুরির ‘অপবাদ’ দিয়ে দুই তরুণ ও এক কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রামভদ্রপুর বুদ্ধিজীবী মোড় নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের একটি ভিডিও চিত্র আজ রোববার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় দুই তরুণের অভিভাবক বাদী হয়ে আজ রোববার বিকেলে ফুলবাড়ী থানায় উপজেলার রামভদ্রপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাকিম সরকারসহ আটজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

নির্যাতনের শিকার তিনজন হলেন উপজেলার পূর্ব জাফরপুর গ্রামের সৈয়দ শামীম হোসেন (১৮), রাকিবুল ইসলাম (১৯) এবং রামভদ্রপুর গ্রামের এক কিশোর (১৪)। এ ঘটনায় ভয়ে আরও দুই কিশোর পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, শনিবার সকালে শিক্ষক মোস্তাকিম ও তাঁর অনুসারীরা ওই তিনজনকে বুদ্ধিজীবী মোড় এলাকায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রড, পাইপ ও লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করা হয়। চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করতে তাঁদের পায়ের তালুতে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ পুশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে শিক্ষক মোস্তাকিমসহ তাঁর সহযোগীরা আহত কিশোরদের ছাগলচোর আখ্যা দিয়ে শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করেন। পরিষদ থেকে কিশোরদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন আহত অবস্থায় তাঁদের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। বর্তমানে তাঁরা সেখানেই চিকিৎসাধীন।

নির্যাতনের শিকার সৈয়দ শামীম হোসেন বলেন, ‘হঠাৎ করে বাবু মাস্টারসহ (মোস্তাকিম) কয়েকজন আমাদের মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে আসেন বুদ্ধিজীবী মোড়ে। সেখানে নামিয়ে বলতে থাকেন এরা ছাগল চুরি করেছে। বলতে বলতেই মারতে শুরু করেন। পায়ে সুচ দিয়ে খোঁচা মারতে থাকেন। মার সহ্য করতে না পেরে চুরির করেছি বলে স্বীকার করি। কিন্তু আমরা চুরি সম্পর্কে কিছুই জানি না।’
রাকিবুল ইসলামের বাবা মোমিনুল ইসলাম বলেন, ছেলেকে মারছে শুনতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন তাঁর ছেলে কাতরাচ্ছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে শিক্ষক মোস্তাকিম তাঁর ছেলেকে চোর সাজিয়ে নির্যাতন করেছেন। তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করেছেন।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ হাতে পেয়েছেন। ইতিমধ্যে নির্যাতনকারীদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

এদিকে এই ঘটনায় ওই রাতে রামভদ্রপুর গ্রামে সালিস বসে। সেখানে গ্রামের লোকজন ও শিক্ষক মোস্তাকিম উপস্থিত ছিলেন। সালিসে নিখোঁজ থাকা দুই কিশোরের অভিভাবকদের তিন দিনের মধ্যে ছেলেকে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বিগত দিনে চুরি যাওয়া ১৪টি ছাগল এবং একটি গরু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যদি অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের হাজির করতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়।

ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মোস্তাকিম সরকার ওরফে বাবু মাস্টারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, ঘটনার কথা শুনেছেন। পরে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. বাদলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ওই কিশোরদের তাঁদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দিয়েছেন। রাতে আবার সালিস বসেছে, এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাঁরা ঠিক করেননি।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন