ঘরের জিনিসপত্র পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। আগুনে ছটফট করছিল ছাগল দুটি। মেনে নিতে পারছিলেন না মহেলা বিবি (৬০)। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাগলগুলোকে উদ্ধার করতে আগুনের ভেতর ঢুকে যান। দগ্ধ অবস্থায় ছাগলগুলো উদ্ধার করলেও নিজে অক্ষত থাকতে পারেননি। নিজেও দগ্ধ হয়ে ফিরেছেন। ততক্ষণে গোটা বাড়ির সবকিছু পুড়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারার গনিপুর ইউনিয়নের চকমহব্বতপুর গ্রামে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, আগুনে বাড়ির সব মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে।

default-image

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানান, রাতে কৃষক আবদুল খালেক ও মহেলা বিবি দম্পতি ঘুমিয়ে ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে শয়নঘরে আগুন লাগে। কিছুক্ষণ পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা টের পান। আগুনের তাপে ঘুম থেকে জেগেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় ঘরে থাকা মালামাল বের করার চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে পারেননি। আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন আগুন নেভাতে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হয়। ততক্ষণে বাড়ির সব মালামাল, আসবাবসহ ঘরে থাকা সবকিছু পুড়ে যায়।

এদিকে শয়নঘরের পাশে থাকা ছাগল ও কবুতরের ঘরেও আগুন লেগে যায়। পাশ থেকে বিষয়টি লক্ষ করেন মহেলা বিবি। তিনি ঝুঁকি নিয়ে ছাগলগুলো উদ্ধার করতে যান। দগ্ধ অবস্থায় তিনটি ছাগল উদ্ধার করলেও নিজে অক্ষত থাকতে পারেননি। তাঁর হাত-পা পুড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

শয্যাশায়ী মহেলা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রথম আলোকে বলেন, শখের কবুতর মারা যাওয়ার পর ছাগলগুলো পুড়তে দেখেন। এতে ভীষণ কষ্ট পান। চুপচাপ বসে থাকতে না পেরে আগুনের ভেতরে ঝাঁপ দিয়ে ছাগলগুলো উদ্ধার করেন। আর কবুতরগুলো আগেই মরে ছাই হয়ে যায়।

default-image

মহেলার স্বামী আবদুল খালেক বলেন, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এখন তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। গৃহপালিত প্রাণী রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী দগ্ধ হয়েছেন। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়িতে এনে চিকিৎসা চলছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন এবং তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করবেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন