default-image

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আনাস (৭) নামের এক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে কামরুল ইসলাম (২৫) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে ওই শিক্ষককে চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার রাতে ওই ছাত্রের বাবা আবু তাহের বাদী হয়ে শিক্ষক কামরুল ইসলামের নামে মামলা করেন। কামরুল ইসলাম গারাঙ্গিয়া রঙ্গিপাড়া হেফজখানা ও এতিমখানার শিক্ষক। তিনি সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রঙ্গিপাড়া এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের ছেলে। আবদুল্লাহ আনাসের বাড়িও রঙ্গিপাড়ায়।

পুলিশ জানায়, আড়াই মাস আগে আবদুল্লাহ আনাসকে গারাঙ্গিয়া রঙ্গিপাড়া হেফজখানা ও এতিমখানার হেফজ বিভাগে ভর্তি করা হয়। পড়া না পারায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই ছাত্রকে শিক্ষক কামরুল ইসলাম একটি বাক্সের ওপর উপুড় করে ফেলে উপর্যুপরি বেত্রাঘাত করেন। এতে ওই ছাত্রের পিঠে রক্ত জমাট বেঁধে দাগ হয়ে যায়। তবে ওই ছাত্র আহত হলেও বিষয়টি জানাজানি হয়নি। গত শুক্রবার রাতে ওই ছাত্র বাড়িতে গেলে মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে আবদুল্লাহ আনাসকে শুক্রবার রাতেই সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শনিবার দুপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে প্রহার করে আহত করার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিক্ষক কামরুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। ওই রাতেই আহত ছাত্রের বাবা থানায় এসে শিক্ষক কামরুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেছেন।

আহত ছাত্রের বাবা আবু তাহের প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপর্যুপরি বেত্রাঘাতের কারণে আমার ছেলের পিঠে দাগ হয়ে গেছে। শিক্ষক বিষয়টি মা-বাবাকে না জানানোর জন্য বলেছিলেন। তাই সে প্রথমদিকে আমাদের কিছুই বলেনি। তার শারীরিক অবস্থা দেখে মা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ছেলে এখন ব্যথা ও জ্বরে ভুগছে।’

এ ব্যাপারে মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা নুরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফোরকান প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রদের প্রহার করা উচিত নয়। অমানবিকভাবে আনাসকে প্রহার করা খুবই অন্যায় হয়েছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের ব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে শুনেছেন।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পড়া না পারার অজুহাতে এক শিশুছাত্রকে প্রহার করার অভিযোগে করা মামলায় কামরুল ইসলাম নামের শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ওই শিক্ষক এর আগে মাদ্রাসার আরও কয়েকজন ছাত্রকে অমানবিকভাবে প্রহার করেছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন