সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট মামলায় জড়ানো হয়েছে। জেলা কমিটিতে যাঁরা পদ পাননি, এমন একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর মানহানি করার জন্য এই মামলা করিয়েছে। এ ছাড়া মামলায় জড়ানো হয়েছে জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম ওরফে রুবেল প্রধান ও সদস্য শাহপরান সরকারকে। সারা দেশ করোনা মহামারিতে আক্রান্ত, এমন সময় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘মামলার বাদীকে ইকবাল হোসেন তো দূরের কথা, জেলা ছাত্রদলেরও কেউ চেনেন না। মামলা হওয়ার পর বাদী সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, তিনি চার বছর মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছিলেন। সেখানে মানব পাচারের একটি মামলায় কারাভোগ শেষে করোনায় আগে দেশে ফিরে তিনি একটি ডাকাত দলের সঙ্গে জড়িত হন। ডাকাতি করতে গিয়ে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে প্রধান আসামি করে পুলিশ মামলা করে। ওই মামলায় চার মাস জেলহাজতে থাকার পর সম্প্রতি তিনি জামিন পান। জমিসংক্রান্ত পরিবারিক বিরোধের জের ধরে করা ওই মামলায় ইকবাল হোসেনসহ জেলা কমিটির দুই নেতাকে জড়ানো হয়েছে। আমরা এই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম জানান, মূলত মামলার বাদীর সঙ্গে তাঁর আত্মীয়দের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলা হয়েছে। ওই মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ জেলা কমিটির নেতাদের জড়ানোর বিষয়টি দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি অশুভ শক্তির নোংরামি ও ষড়যন্ত্রের অংশ। মামলায় করার অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মামলার বাদী আব্বাস আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ছাত্রদলের তৎকালীন নেতা হিসেবে অন্যদের মতো আমাকেও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ডাকাতির মামলায় জড়ানো হয়েছিল। জমিসংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের কারণে নয়, জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের কারণেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে আমাকে মারধর করা হয়।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুরা থানায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন রায়পুরা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্বাস আলী ওরফে নাহিদ। মামলার আসামিরা হলেন ছাত্রদলের নেতা ইকবাল হোসেন ওরফে শ্যামল (৩৪), রাফসান শাওন (২৩), মো. আবদুল্লাহ (২৫), রুবেল প্রধান (৩০) ও শাহপরান সরকার (২৮)।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নবগঠিত জেলা কমিটির সমালোচনা করে বেশ কিছু পোস্ট দেওয়ায় গত ২৮ জুন বিকেলে আসামিরা মামলার বাদীকে মারধর করে ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেন।
এ নিয়ে ৮ জুলাই প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘ ছিনতাইয়ের অভিযোগে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা’ এবং ৯ জুলাই ছাপা সংস্করণে ‘ছিনতাইয়ের অভিযোগ, ছাত্রদলের সম্পাদকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।