ছাত্রলীগের একটি পক্ষের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি অংশের নেতা খন্দকার মো. সাঈদ তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে অসহায় মানুষের মধ্যে ইফতারি বিতরণ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই আরেকটি অংশের নেতা মো. শরীফ হোসাইনের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী এসে সাঈদের ওপর হামলা চালান।

সাঈদের অনুসারীরা বলছেন, অতর্কিত হামলা চালিয়ে সাঈদসহ কয়েকজনকে আহত ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। পরে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে শরীফের অনুসারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে সাঈদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ১০ জন আবাসিক ছাত্রের বিছানাপত্র, পোশাকসহ জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দিয়ে তাঁদের হল ত্যাগে বাধ্য করে।

সাঈদের অনুসারী এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘ইফতারের পর আমি টিউশনি করতে চলে যাই। খবর পেয়ে এসে দেখি, আমার কক্ষ থেকে বিছানাপত্র, পোশাকসহ সবকিছু বাইরে ফেলা অবস্থায় আছে। তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। তাই সবকিছু ভিজে গেছে। সেসব বিছানাপত্র তুলতে গেলেও শরীফ ও তাঁর অনুসারীরা হুমকি দেন। বর্তমানে আমি ক্যাম্পাসের বাইরে আছি।’

খন্দকার মো. সাঈদ বলেন, ‘সামনে কমিটি হবে। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই আমার এবং আমার অনুসারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি আমার কর্মীদেরও জোর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. শরীফ হোসাইন প্রথম আলোকে বলেছেন, সাঈদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু জুনিয়র শিক্ষার্থীর কোনো কারণে মনোমালিন্য ও দ্বন্দ্ব আছে। ইফতারি বিতরণের খবর পেয়ে জুনিয়ররা সেখানে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। পরিস্থিতি অশান্ত হতে পারে ভেবেই তিনিসহ অন্যরা গিয়ে সাঈদকে ইফতারি বিতরণ শেষে চলে যেতে বলেন। তিনিও ইফতারি বিতরণ শেষে চলে যান। কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। হল থেকেও কোনো ছাত্রকে বের করে দেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিষয়ে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামলা কিংবা হল থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’