default-image

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাত ওরফে আওয়ালের বিরুদ্ধে মহাসড়কের কাজের ঠিকাদারদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। জিডিটি করেছেন ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের ভরাটকাজে মাটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এমএম এন্টারপ্রাইজের অন্যতম অংশীদার মানিক হোসেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার দাসকান্দি গ্রামে।

জিডি ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের ভরাটকাজে মাটি সরবরাহে নিয়োজিত এমএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম এবং মহাসড়কটির উন্নয়নকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এনডিই লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আইনুল ইসলামকে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা রাকিব হাসনাত ও তাঁর সহযোগীরা। প্রতিষ্ঠান দুটির কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তাঁরা। চাঁদার টাকা না পেয়ে এ হামলা করা হয়।

আমি ও মোন্তাজ উদ্দিন মাটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অংশীদার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে মামলা করার পর থেকেই বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে আমাদের খুন করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে জীবনের নিরাপত্তায় থানায় জিডি করেছি।
মানিক হোসেন, এমএম এন্টারপ্রাইজের অন্যতম অংশীদার

হামলাকারীরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান খান এবং তাঁর ছোট ছেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফুয়াদ রহমান খানের অনুসারী। এ সময় এক্সকাভেটর ভাঙচুর ও চাঁদা হিসেবে ২ লাখ ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে এমএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসান ক্ষুব্ধ হয়ে মানিক হোসেন ও এমএম এন্টারপ্রাইজের আরেক অংশীদার মোন্তাজ উদ্দিনকে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী মানিক হোসেন বলেন, তিনি ও মোন্তাজ উদ্দিন মাটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অংশীদার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে মামলা করার পর থেকেই বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে তাঁদের খুন করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে জীবনের নিরাপত্তায় তিনি থানায় জিডি করেন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব হাসনাতের মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান খান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে উপজেলায় দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাঁর অনুসারী। তবে চাঁদা দাবির ঘটনা মিথ্যা। হুমকি-ধমকি দেওয়ার ঘটনা তাঁর জানা নেই। তিনি দাবি করেন, যাঁরা মামলা করেছেন, তাঁরা বন্দর এলাকায় মাটি কেটে বিক্রি করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

চাঁদা দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৩

এদিকে চাঁদা দাবি, ভাঙচুর, মারধর ও চুরির অভিযোগে এমএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলামের দায়ের করার মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন উপজেলার কাতরাসিন গ্রামের নাঈম হোসেন (২০), নিহালপুর গ্রামের আনিসুর রহমান (২৬) ও রাজিব হোসেন (২৬)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শিবালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার স্যান্নাল জানান, গতকাল দুপুরে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন