default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা ছাত্র মৈত্রীর মানববন্ধন ও সমাবেশে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার বিকেল চারটার দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধন করতে গেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।  জাসদ, ওয়ার্কার্স পাটিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীরা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৩ মার্চ ঢাকায় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের মিছিলে হামলা করেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এর প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে জেলা ছাত্র মৈত্রীর নেতা–কর্মীরা। একই সময়ে জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও একটি মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।

ছাত্র মৈত্রীর নেতা-কর্মীরা কর্মসূচি শুরু করলে সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত হন। এরই মধ্যে ছাত্র মৈত্রীর সমাবেশটি সংক্ষিপ্ত করতে মুক্তিযোদ্ধারা আহ্বান জানান। এ সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা জেলা ছাত্র মৈত্রীর ব্যানার টেনে নিয়ে যান এবং ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ফাহিম মুনতাসিরের পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেন। এ ছাড়া তাঁরা ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক সানিউর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. জিহাদসহ কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন।

ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা জেলা যুব মৈত্রীর আহ্বায়ক নাসির মিয়া বলেন, ‘মানববন্ধন শুরুর সময়ই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ব্যানার–ফেস্টুন নিয়ে যান। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে ছাত্র মৈত্রী তাদের নির্ধারিত আয়োজন করতে পারেনি।’

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানস্থলে থাকা ছাত্রলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ব্যানারে মোদির আগমন নিয়ে আপত্তিকর কথা লেখা ছিল। যে কারণে তাদের এ কর্মসূচি বাতিল করতে বলা হয়।’ তবে কাউকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

ক্তিযোদ্ধারা আগে থেকেই এখানে মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়ে রাখে। যে কারণে সেখানে থাকা ছাত্র মৈত্রীর নেতাদের সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি করে সরে যেতে বলা হয়।
আল-মামুন সরকার, সাধারণ সম্পাদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা আগে থেকেই এখানে মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়ে রাখে। যে কারণে সেখানে থাকা ছাত্র মৈত্রীর নেতাদের সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি করে সরে যেতে বলা হয়।’

এ ঘটনায় একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হুসাইন আহমেদ তফসির, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি কাজী মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খান, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি শাহরিয়ার মো. ফিরোজ, সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উদীচী সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, বিজয়নগর উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী, যুব মৈত্রীর সদস্যসচিব ফরহাদুল ইসলাম, কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ রফিক প্রমুখ এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন