বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই বাসায় মা, দুই ভাই ও তিন বোন থাকতেন। আরেক বোন বিয়ের পর যুক্তরাজ্যে থাকছেন। পরিবারের সদস্যরা চাপা স্বভাবের ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আত্মীয়স্বজনদের যোগাযোগ কম ছিল। আজ সকালে হঠাৎ বাড়ির ছাদে দুই বোনের ঝুলন্ত লাশ দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, তাঁরা মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। তবে কারও সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করতেন না।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান লোদী বলেন, দুই বোনের লাশ উদ্ধারের ঘটনা অনেকটা রহস্যজনক। দুই বোন গতকাল সোমবার রাতে দা হাতে নিয়ে চাচার বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে সেখানে বেশ কিছু সময় অবস্থানের পর বাড়ি ফিরে যান। দুই বোনের চাচা প্রতিবেশী ধানাই মিয়া। তিনি বেশ কিছুদিন আগে মারা গেছেন। তাঁর ছেলে রিপন মিয়ার বরাত দিয়ে তিনি জানান, গতকাল রাত ১২টায় দুই বোন তাঁদের বাড়ির ঢুকে ফটকে ধাক্কা দিয়ে ডাকাডাকি করতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রবেশফটক খুলে দিলে তাঁরা ঘরে আতঙ্কিত হয়ে দা হাতে ঢুকেন। কী ঘটেছে জানতে চাইলে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে বলেন, তাঁদের মেরে ফেলা হবে। তবে কারা মেরে ফেলবে, বিষয়টি তাঁরা পরিষ্কার করেননি। পরে রাতেই তাঁদের বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেন রিপন মিয়া। আজ সকালে তাঁদের লাশ পাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়।

রেজাউল হাসান লোদী বলেন, ঘটনাটি রহস্যজনক। তাঁদের বক্তব্যগুলো পরস্পরবিরোধী। পুলিশ উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

সিলেট বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মইনুল জাকির বলেন, লাশ দুটি একটি ছাদের একই পিলারের আলাদা দুটি রডে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল গভীর রাত থেকে আজ সকাল ছয়টার মধ্যে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। এটি আত্মহত্যা কি না তিনি সে মন্তব্য করতে চাননি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে, এটি আত্মহত্যা না হত্যা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন