বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। সেখানে দাবি উঠেছে সড়কটিতে রাতে সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল জোরদার করার। এমন দাবি অনেকবার উঠেছিল। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়। এতে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়। আবার টহল একটু ঢিলেঢালা হলে ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ে।

২০১৬ সালে এই পথে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে একটি ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী খুনের ঘটনা ঘটে। তবে বড় দুর্ঘটনা না হলে অধিকাংশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয় না।

কারমাইকেল কলেজের প্রবেশপথ শহরের লালবাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার্কের মোড় হয়ে মডার্ন মোড় পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার সড়কের কিছু অংশ নির্জন। সড়কের দুই পাশে খালি জায়গা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় এবং কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল ও কলেজ। কিছু এলাকায় কয়েকটি বাসাবাড়ি কিংবা শিক্ষার্থীদের বসবাসের জন্য আবাসিক মেস থাকলেও সেগুলো প্রধান সড়ক থেকে কিছুটা দূরে। দুটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক মেসে বসবাসরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একমাত্র এই পথে চলাচল করতে হয়।

এদিকে গত এক সপ্তাহের মধ্যে ছিনতাইয়ের শিকার দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কারমাইকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী বলেন, হেঁটে মেসে যাওয়ার সময় কলেজিয়েট স্কুল ও কলেজের পাশ থেকে দুই ছিনতাইকারী একটি ছোরা নিয়ে তাঁর পথরোধ করে। ভয় পেয়ে তিনি মানিব্যাগটি দিয়ে দেন।

ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই বিপদ। যেমনটি ঘটে গেল গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভোরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে।
তুহিন ওয়াদুদ, বিভাগীয় প্রধান, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ছিনতাইয়ের শিকার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান জানালেন, দুই বন্ধু রাত ১২টার দিকে হেঁটে মেসে যাচ্ছিলেন। এমন সময় কৃষি অফিসের পাশ থেকে মুখোশ পরা দুই ছিনতাইকারী তাঁদের আটকায়। এরপর সঙ্গে থাকা টাকা এবং একটি মুঠোফোন পকেট থেকে বের করে দিলে তারা মুহূর্তে সটকে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই বিপদ। যেমনটি ঘটে গেল গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভোরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে। এঁদের মধ্যে গুরুতর জখম শিক্ষার্থী পরাগ মাহমুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আর আহত শিক্ষক মনিরুজ্জামান রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।

গতকাল শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় রিফাত হোসেন ওরফে আলিফ (২২) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, কিছু টাকা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি এই সড়কের পাশে আশরতপুর এলাকায়। মারুফ হোসেন বলেন, এখন থেকে আরও গুরুত্বসহকারে ওই সড়কসহ আশপাশ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন