বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর করোনার কারণে রাতে দোকানপাট বন্ধ থাকত। এতে হাসপাতালে থাকা রোগীর স্বজনেরা সাহ্‌রি খেতে পারতেন না। এমন এক প্রেক্ষাপটে হাসপাতালে সাহ্‌রি বিতরণ শুরু করে সংগঠনটি। পরে সদস্যরা দেখলেন, গৃহহীন শ্রমিক থেকে শুরু করে ছিন্নমূল অসহায় বহু মানুষ সাহ্‌রি জোগাড় করতে পারেন না। অনেকেই না খেয়ে রোজা রাখেন। এ কারণে এ কার্যক্রমের কলেবর বৃদ্ধি করে তাঁদেরও সাহ্‌রি দিতে শুরু করেন সংগঠনের লোকজন। বর্তমানে সংগঠনের পক্ষ থেকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, মধ্য শহরের আবদুল হামিদ সড়ক ও অনন্ত বাজার এলাকায় প্রতি রাতে সাহ্‌রি সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবক তৌহিদুর রহমান ও রাইসুল ইসলাম বলেন, সংগঠনের নিজস্ব অর্থায়ন ও শহরের কিছু মানুষের সহযোগিতায় কার্যক্রমটি চলছে। প্রতিদিন তাঁরা ৩০০ থেকে ৪০০ জন মানুষের হাতে সাহ্‌রি তুলে দিচ্ছেন। অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের পরও খাবার তালিকায় ভাতের সঙ্গে দিনভেদে মাছ, মাংস ও ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতি প্যাকেট খাবার সরবরাহ করতে গড়ে খরচ হচ্ছে ৫০ টাকা। ছাত্র, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার ১২ জন স্বেচ্ছাসেবক এ কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। বাজার, রান্না, খাবার প্যাকেট ও মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া পুরো কাজটি তাঁরাই করেন।

গত শনিবার আবদুল হামিদ সড়কে সাহ্‌রির প্যাকেট নেন মাছ বিক্রেতা আলম মুন্সি। তিনি বলেন, কাজের কারণে রাতে তাঁদের বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। তাঁর মতো বহু মানুষ রাস্তায় থাকেন। যাঁদের বাড়ি ফিরতে সাহ্‌রির সময় পার হয়ে যায়। এ সাহ্‌রি বিতরণ কার্যক্রম তাঁদের বড় উপকার করছে।

গত শনিবার রাত ২টার দিকে সাহ্‌রি বিতরণের কর্মীরা পৌঁছান পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। স্বেচ্ছাসেবকেরা পৌঁছাতেই লাইনে দাঁড়ান তাঁরা। লাইনে দাঁড়ানো নারী-পুরুষেরা জানান, হাসপাতালে তাঁদের সাহ্‌রির কোনো ব্যবস্থা নেই।

ফাউন্ডেশনের পরিচালক দেওয়ান মাহবুব বলেন, ‘আমাদের সাধ অনেক, তবে সাধ্য কম। এরপরও স্বেচ্ছাসেবকদের শ্রম ও কিছু মানুষের সহযোগিতায় আমরা সাহ্‌রি বিতরণের কার্যক্রমটি চালিয়ে যাচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন