default-image

নূরে হাবিবের ব্যাংক হিসাবে এক বছর ধরে জমা ছিল মাত্র ৮৩ টাকা। অথচ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর ছয় লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে তিনি থানায় মামলা করেন। পুলিশের তদন্তে তাঁর প্রতারণা ধরা পড়ার পরে পুলিশ এখন তাঁর বিরুদ্ধে উল্টো প্রতারণার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নূরে হাবিব (৩৮) রাজশাহী নগরের ভদ্রা জামালপুর এলাকার বাসিন্দা। গতকাল সোমবার বিকেলে নগরের বোয়ালিয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর টাকা ছিনতাই হয়েছে। নগরের বোয়ালিয়া থানা থেকে সামান্য দূরেই মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তাঁর টাকার ব্যাগ নিয়ে গেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার সময় তিনি শপিং ব্যাগে টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন।

পুলিশ ব্যাংকটির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নূরে হাবিবকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পায়নি। এমনকি ব্যাংক থেকে কোনো টাকা তোলা হয়নি বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, মামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নূরে হাবিব মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তিনি প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহী নগরের আলুপট্টি শাখা থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশ ব্যাংকটির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নূরে হাবিবকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পায়নি। এমনকি ব্যাংক থেকে কোনো টাকা তোলা হয়নি বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নূরে হাবিবের ব্যাংক হিসাবে ১ বছর ১০ দিন ধরে আছে মাত্র ৮৩ টাকা। এতেই প্রমাণিত হয় নূরে হাবিব মিথ্যা বলছেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর নূরে হাবিবকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি লিখিতভাবে পুলিশকে জানান, তাঁর বড় ভাই রওশন আলী যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে তিনি ছয় লাখ টাকা তুলে খরচ করে ফেলেছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঢাকার শ্যামলী শাখায় তাঁর ব্যাংক হিসাব ছিল। সেই হিসাব থেকে থেকে বিভিন্ন সময় টাকা তোলার কারণে একসময় দেখা যায় ছয় লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। নূরে হাবিব তাঁর ভাইয়ের টাকা তাঁকে না জানিয়ে খরচ করায় ছিনতাইয়ের নাটক সাজান।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করায় বাদীর বিরুদ্ধেই পেনাল কোড-১৮২ ধারায় প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এ মামলায় তাঁর দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
নিবারন চন্দ্র বর্মণ, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বোয়ালিয়া থানা

নগরের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মণ বলেন, বাদীর কথাবার্তা শুনে তিনি ১০ মিনিটেই আসল ঘটনা বুঝে ফেলেছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৪৫ মিনিটের মধ্যে ব্যাংক বিবরণী সংগ্রহ করেছিলেন। এর মাধ্যমেই রহস্য উন্মোচন হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন চূড়ান্ত প্রতিবেদন লিখে শুধু আদালতে দাখিল করা হবে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করায় বাদীর বিরুদ্ধেই পেনাল কোড-১৮২ ধারায় প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এ মামলায় তাঁর দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

মন্তব্য করুন