বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কথা বলতে বলতেই কাছে এসে দাঁড়াল একই শ্রেণির ব্যবসায় বিভাগের শিক্ষার্থী সরস্বতী চক্রবর্তী, রিমি আক্তার ও সানজিদা ইসলাম। সানজিদার ভাষ্য, ‘এই আনন্দ আনন্দ না। আসল আনন্দ হবে সেদিন, যেদিন পৃথিবী থেকে করোনা উঠে যাবে, আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরব।’

কিছু সময়ের জন্য বাংলা চলচ্চিত্র ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’ ছবিতে অনুপম রায়ের গাওয়া ‘বন্ধু চল’ গানটির আবহ তৈরি হয়েছিল যেন পুরো বিদ্যালয়ে। মাঠ পেরিয়ে স্কুলের বারান্দা, শ্রেণিকক্ষ, মূল ফটকের সামনে বসার জায়গাসহ আনাচকানাচে ছিল শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট জটলা। সেখানে গল্প-আড্ডায় তারা বারবার চলে যাচ্ছিল স্কুলজীবনের আগের আনন্দময় দিনগুলোতে। তাদের দেখা–সাক্ষাতের সময় কানে ভেসে আসছিল ‘বন্ধু কী খবর? আহ! কত দিন পর দেখা’, ‘তোকে অনেক মিস করেছি রে’ নানান কথা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয় বাদ সেধেছে শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। স্কুল প্রাঙ্গণে পা দিতেই মুখে রাখতে হয়েছে মাস্ক। মূল ফটকে তাপমাত্রা পরিমাপ যন্ত্রের মুখোমুখি। বেসিনে সাবান–পানি দিয়ে হাত ধোয়া বা প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সচেতনতা নিয়ে শিক্ষকদের কঠোরতায় বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে তাদের। তারপরও আনন্দ বা উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না।

দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদা আক্তার মুক্তা বলে, ‘এবারের দেখা বা ক্লাস আগের মতো না। আমরা মাস্কের কারণে কেউ কারও চেহারাটা দেখতি পারছি না। কিন্তু তারপরও আমাদের মনে আনন্দ কমছে না। স্কুলে আসতে পারছি, এটাই বড় ব্যাপার।’

স্কুলটিতে ঘুরতে ঘুরতে ঘড়িতে সময় পৌনে ১২টা। এবার কানে ভেসে আসে স্কুল দপ্তরির বাঁশির শব্দ। বাঁশি বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্কুল ত্যাগ করার জন্য তাড়া দিচ্ছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর দেখা, শিক্ষার্থীরা এখনই যেতে চাচ্ছে না, তারপরও শিক্ষক-দপ্তরির কড়াকড়িতে স্কুল ছেড়ে বাড়ির দিকে পা বাড়াতে হচ্ছে তাদের। সেখানেও একে অপরকে উদ্দেশ করে বলছে, ‘বন্ধু, ভালো থাকিস’, ‘কাল আবার দেখা’ ইত্যাদি কথাবার্তা।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর স্কুলে ফিরে শিক্ষার্থীরা খুব আনন্দিত। আমাদেরও খুব ভালো লাগছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা মানতে আমাদের কঠোর হতে হচ্ছে। ক্লাস শেষে বেশিক্ষণ স্কুলে থাকতে দিচ্ছি না। তা ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানার দিকটাতেও আমাদের কঠোর অবস্থানে থাকতে হচ্ছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন